মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): আবারও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। উপজেলার মধ্যে ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রেখে গুণগত ও পরিমাণগত- উভয় দিক থেকেই এবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। দুর্দান্ত এই অর্জনে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভাসছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মোট ১৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১৮ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন এবং ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে ৩২ জন। পাসের হার ৭৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ভোকেশনাল শাখা থেকে ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৩ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন এবং ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে ৪০ জন। পাসের হার ৭৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন এবং ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে ৭২ জন। এ বছর পাসের হার ও সামগ্রিক ফলাফলের মান- উভয় ক্ষেত্রেই নিজেদের অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিল। এ ছাড়া এ বছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় একজন ট্যালেন্টপুলে ও পাঁচজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।
উপজেলায় শীর্ষস্থান অর্জন প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন, এ অর্জন কেবল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একার নয়। এটি আমাদের সব শিক্ষক-কর্মচারী, গভর্নিং বডির সম্মানিত সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, অভিভাবক এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল।
আগামী দিনেও এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়-
- লক্ষ্মীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়: ১৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ৯২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
- ফরিদপুর ইউনিয়ন আ. হামিদ ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়: ১৩৯ জনের মধ্যে পাস ১০০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
- কুলিয়ারচর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়: ১৩২ জনের মধ্যে পাস ৯৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
- বেগম নুরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ৮২ জনের মধ্যে পাস ৬০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৭৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।
- আগরপুর গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়: ১২৭ জনের মধ্যে পাস ৮৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।
- এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়: ১৩২ জনের মধ্যে পাস ৭৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
- গোবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়: ৪৯ জনের মধ্যে পাস ৩৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৭৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
- মুছা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়: ৭৯ জনের মধ্যে পাস ৪৯ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ০৩ শতাংশ।
- আব্দুল্লাপুর বড়চারা আইভি রহমান উচ্চ বিদ্যালয়: ৩২ জনের মধ্যে পাস ২৫ জন। পাসের হার ৭৮ দশমিক ১২ শতাংশ।
- আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়: ১৭৮ জনের মধ্যে পাস ৯৪ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৮১ শতাংশ।
- বীর কাশিম নগর ফেদাউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়: ৫২ জনের মধ্যে পাস ৩০ জন। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
- লায়ন মুজিব মুনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ২১ জনের মধ্যে পাস ১৭ জন। পাসের হার ৮০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
- বাংলাবাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়: ১২৪ জনের মধ্যে পাস ৪১ জন। পাসের হার ৩৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।
- জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়: ৪৫ জনের মধ্যে পাস ১৭ জন। পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
এ ছাড়া বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে-
- আলিফ বিজ্ঞান ও কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ৩৩ জনের মধ্যে পাস ১২ জন। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
- সালুয়া কারিগরি বিএম কলেজ: ১০ জনের মধ্যে পাস ১ জন। পাসের হার ১০ শতাংশ।
- লক্ষ্মীপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ: ৬০ জনের মধ্যে পাস ৪৯ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
- সালুয়া ফাজিল মাদ্রাসা: ৬৯ জনের মধ্যে পাস ৩৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ০৭ শতাংশ।
- গোবরিয়া ই.ইউ ফাজিল মাদ্রাসা: ৪১ জনের মধ্যে পাস ৩৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাসের হার ৮০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
সব মিলিয়ে এ বছর কুলিয়ারচর উপজেলার ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ হাজার ৭৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ১১৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৫২ জন।

