বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলায় আসন্ন ইটভাটার মৌসুমে মাটির চাহিদা মেটাতে দেদারসে চলছে পাহাড় কাটার অভিযোগ। পরিবেশ আইনকে তোয়াক্কা না করে এক্সকাভেটর (বেকু) দিয়ে একের পর এক পাহাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে পাহাড় কাটার ঘটনা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, ‘মোক্তার-নাজু’ নামের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে অসাধু উপায়ে ‘ম্যানেজ’ করে এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা যায়নি। লামা উপজেলায় প্রায় ৪০টি বা তারও বেশি ইটভাটা সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষার মধ্যেই বড় বড় পাহাড়ের ঢাল কেটে খাড়া করে ফেলা হয়েছে। পাহাড়ের নিচে জমা করা হচ্ছে মাটির বিশাল স্তূপ। এসব মাটি ইটভাটায় নেওয়ার জন্য মজুত করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বর্ষাকালে পাহাড় কাটার ফলে অতিবৃষ্টিতে যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষসহ স্থানীয় জনপদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অধিকাংশ ইটভাটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লোকালয় ও বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এসব ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালা ও অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে হাঁপানি, ফুসফুসের সমস্যা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। পরিবেশবাদীদের মতে, ইটভাটার ধোঁয়া ও রাসায়নিক নির্গমনের কারণে মাটির উর্বরতা কমছে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণীরা তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারাচ্ছে। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল হাসান সজীব বলেন, আমি বান্দরবানে যোগদানের পর গত তিন মাসে অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার দায়ে ২৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছি। এ সময়ে পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান চলমান রয়েছে।
তবে নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানার পরও কীভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, পাহাড় রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

