বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন উপলক্ষে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের দইহারা-শিরিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবাদী ভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতিতে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে।
আদিবাসী জনগণের অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। এ দিবসটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহ্যগত জ্ঞান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নে আদিবাসী জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকেও স্বীকৃতি দেয়।
রোববার (৯ আগস্ট) দিবসটি উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- “জীবন রক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে আদিবাসী ধাত্রীদের অনন্য অবদানকে সম্মান জানানো”। প্রতিপাদ্যটি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কল্যাণ এবং ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাঁওতাল নারী-পুরুষরা তাদের অধিকার ও দাবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করেন। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে আসে। পরে সাঁওতালসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী স্টলের মাধ্যমে তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রদর্শন করেন। এ সময় সাঁওতাল নারী-পুরুষরা গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে অবলম্বন ও আমরাই পারি। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করেছে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।
আলোচনা সভায় পল্লবী মুর্মুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, শাখাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির, শিরিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হাই সিদ্দিক, আদিবাসী নেত্রী সরলা পালসা, গ্লোরিয়া তিগ্যা, আদিবাসী নেতা সুশীল টপ্য, তারামনি টপ্য, আবিনা টপ্য ও ফিলিমনা হেমব্রমসহ অন্যরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সারাদেশে সাঁওতালসহ আদিবাসী জনগোষ্ঠী মানবাধিকার ও জীবনমানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো নানা ধরনের বঞ্চনার শিকার। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর তুলনায় পিছিয়ে থাকা সমতলের আদিবাসীরা ক্রমেই অবহেলিত হয়ে পড়ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু আদিবাসীরাই বিলুপ্ত হচ্ছে না, তাদের সংস্কৃতি ও ভাষাও বিলুপ্তির পথে। তারা আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীগুলোর একটি উল্লেখ করে বলেন, তাদের অধিকাংশই ভূমিহীন এবং নিজেদের নামে পর্যাপ্ত ভূমি নেই।
তাদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ক্রমাগত সাঁওতালসহ আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও সাঁওতালরা তাদের অধিকার ও মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত।
সমাবেশ থেকে আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনসহ তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

