সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

লামার ফাইতংয়ে দুই বোনের বিরুদ্ধে ভূমি জালিয়াতির অভিযোগ

লামার ফাইতংয়ে দুই বোনের বিরুদ্ধে ভূমি জালিয়াতির অভিযোগ

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে দরিদ্রতা ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে দুই বোনের বিরুদ্ধে ভূমি জালিয়াতির অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি এবং জমি বিক্রি করেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেওয়ায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত দুই বোন মদিনা বেগম (৫০) ও জরিনা বেগম (৪৭) লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ফাদুরছড়া এলাকার মৃত আব্দুস সালাম ও মৃত খুরশিদা খাতুনের কন্যা।

এদিকে, তাঁদের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে একটি চক্র জমির ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম, হামিদা আক্তার, মো. লালু, নুরুল কবির, জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মদিনা বেগম ও জরিনা বেগমের পিতা মৃত আব্দুস সালাম লামা উপজেলার ৩০৬ নম্বর ফাইতং মৌজার ফাদুরছড়া এলাকায় আর/৩৩০ নম্বর হোল্ডিং মূলে ৫ একর তৃতীয় শ্রেণির জমির মালিক ছিলেন।

২০১৭ সালে ‘মক্কা মদিনা ব্রিকস (এমএমবি)’ নামে একটি ইটভাটা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে মৃত আব্দুস সালামের স্ত্রী খুরশিদা খাতুন এবং তাঁর দুই মেয়ে মদিনা ও জরিনা ওই জমি পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া দেন।

অভিযোগ রয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল দলিল নম্বর-২৮৮/২০১৯ মূলে দুই বোন ৪ একর ৯০ শতক জমি রুহুল আমিনের কাছে বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে মামলা হলে দেওয়ানি আদালত রুহুল আমিনকে বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

ইটভাটার মালিক মুমিনুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিন জানান, রুহুল আমিনের কাছ থেকে বায়নানামা দলিল নম্বর-৩০৫/২০২১ ও ২৪২/২০২২ মূলে ইটভাটার মালিক ওয়াহিদুল ইসলাম ৩ একর ১০ শতক জমি ক্রয় করেন। ইটভাটার আরেক অংশীদার ফরিদ উদ্দিন রুহুল আমিনের অবশিষ্ট অংশ ক্রয় করেন।

তাঁরা আরও জানান, জমির মূল মালিক মৃত আব্দুস সালামের দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানরাও সম্পত্তির অংশীদার। ইটভাটার অংশীদার গিয়াস উদ্দিন তাঁদের অংশও কিনে নিয়েছেন। এছাড়া পাশের জমির মালিক আলী আহমদের ছেলে আলী হোসেনের কাছ থেকে আরও ৫ একর জমি ইটভাটার জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

তাঁদের দাবি, রেকর্ডপত্র অনুযায়ী যতটুকু জমি রয়েছে, বাস্তবে ততটুকু জমি তাঁদের দখলে নেই। এরপরও টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, রুহুল আমিনের কাছে ৪ একর ৯০ শতক জমি বিক্রির পরও মদিনা বেগম ও জরিনা বেগম তথ্য গোপন করে একই জমির ৯০ শতক বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে গ্রাম্য কাগজে বিক্রি করেন। এর মধ্যে মমতাজ বেগমের কাছে ৩০ শতক, জাহাঙ্গীর আলমের কাছে ৩০ শতক, হামিদা বেগমের কাছে ১০ শতক, মো. লালুর কাছে ১০ শতক এবং নুরুল কবিরের কাছে ১০ শতক জমি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, জমি বুঝিয়ে দিলেও তাঁদের কোনো বৈধ দলিল বা কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। একাধিকবার দাবি জানিয়েও মদিনা ও জরিনা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।

মমতাজ বেগম বলেন, দুই বোন এখন এই এলাকায় থাকেন না। জমি বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে তাঁরা কিছু ভূমিদস্যু ও দালালচক্রের লোকজন নিয়ে ইটভাটা কর্তৃপক্ষ এবং আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন। টাকা না পেয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মদিনা বেগম বলেন, এই জমি আমাদের। আমরা কোনো জমি বিক্রি করিনি। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাইছার হামিদ বলেন, এটি ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ। আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সে জন্য ফাইতং পুলিশ ফাঁড়িকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *