আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা সজল চন্দ্র মহন্ত শ্রমিকের কাজ করে দুই সন্তানসহ সংসার চালাতেন। বাপ-দাদার কোনো সম্পত্তি না থাকায় ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছুই নেই তাঁর। অভাবের সংসার হলেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সুখেই দিন কাটছিল সজলের।
বছরখানেক আগে হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন সজল। এরপর ধীরে ধীরে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না, এমনকি অনেক কিছু মনে রাখতেও পারেন না। দিন দিন তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে। প্রথমদিকে বগুড়ায় চিকিৎসা চললেও বর্তমানে অর্থের অভাবে তা বন্ধ হয়ে গেছে। পাঁচবিবি-হিলি মহাসড়ক সংলগ্ন বাড়িতে হাজার টাকারও কম পুঁজির একটি ছোট দোকানই এখন পরিবারের একমাত্র সম্বল। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর সজলের জীবন ও তাঁর পরিবারের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে গেছে।
সজলের অসুস্থতার পর সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়েছে স্ত্রী বৃষ্টি রানী মহন্তের কাঁধে। দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে একাই সংসার চালাতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। ছোট দোকানের সামান্য আয় দিয়েই ওষুধ, খাবার ও সংসারের খরচ কোনোমতে চালিয়ে নিচ্ছেন। এরই মধ্যে বড় ছেলের পড়ালেখাও প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃষ্টি রানী বলেন, স্বামীর চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কিংবা সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার স্বামী আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। চলাফেরার জন্য যদি একটি হুইলচেয়ার পেতাম, তাহলে অনেক উপকার হতো।
চার সদস্যের ছোট্ট পরিবারটি এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। একসময়ের কর্মক্ষম সজল আজ চিকিৎসার অভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। অর্থসংকটের কারণে যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় তিনি ধুঁকে ধুঁকে জীবন কাটাচ্ছেন।
সজলের চিকিৎসা এবং অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী বৃষ্টি রানী মহন্ত। সহায়তার জন্য তিনি তাঁর মোবাইল নম্বর (বিকাশ/নগদ) দিয়েছেন: ০১৭৮২-৯২৫১৬১।

