দোহার (ঢাকা): পরিবারের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ১৮ বছর বয়সী আলেয়া আক্তার। স্বপ্ন ছিল ছোট্ট একটি সুখের সংসার গড়ার। কিন্তু সেই সংসারই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের ট্র্যাজেডিতে পরিণত হলো। বিয়ের মাত্র দুই বছরের মাথায় দেড় বছরের কন্যাসন্তানকে রেখে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে এই তরুণীর। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আলেয়ার মৃত্যু হয়। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আলেয়া আক্তার একই গ্রামের শেখ হালিমের মেয়ে।
ঘটনার পর থেকেই আলেয়ার পরিবার দাবি করছে, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আলেয়ার স্বামী মাসুম বেপারী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রীকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের কারণে একাধিকবার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন আলেয়া। তবে দেড় বছরের মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় মাত্র তিন দিন আগে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। পরিবারের দাবি, সেই ফিরে আসাই ছিল তার জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই স্বামী মাসুম বেপারী আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে তাদের সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।
অন্যদিকে, নিহতের শাশুড়ি মাকসুদা বেগম ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছেন। তবে আত্মহত্যার কারণ বা ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
খবর পেয়ে দোহার থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে রহস্যজনক এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

