সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

পলাশবাড়ীতে ১৪৪ ধারা জারি, উত্তেজনা-আতঙ্কে জনমনে উদ্বেগ

পলাশবাড়ীতে ১৪৪ ধারা জারি, উত্তেজনা-আতঙ্কে জনমনে উদ্বেগ

বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে পৌর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পলাশবাড়ী পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরোয়ার আলম খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গত সোমবার (২৯ জুন) রাতে জুনদহ এলাকায় সংঘটিত সংঘর্ষে পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মিল্লাত সরকার মিলন ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজাসহ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টায় পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় উপজেলা বিএনপি।

অন্যদিকে, একই সময়ে একই স্থানে শিবিরকর্মী আল আমিনের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে বিকেল ৪টায় পলাশবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

একই সময়ে উভয় রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

এদিকে, বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডলের ওপর হামলার ঘটনায় সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মিল্লাত সরকার মিলন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজা, বরিশাল ইউনিয়ন জামায়াতের এক নেতা ও ছাত্রশিবিরের বায়তুলমাল সম্পাদকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে বরিশাল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতকর্মী মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও তাকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আজহারুল ইসলামের বাবা আবুল আলাকেও আহত করা হয়। এছাড়া জামায়াত নেতা রুহুল আমিনের জুনদহ বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আশরাফুল ইসলামকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধাওয়া করে গুরুতর আহত করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।

সংঘর্ষের পর থেকে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উভয় পক্ষের আহতরা চিকিৎসাধীন থাকায় এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *