বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মিল্লাত সরকার মিলন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজা, বরিশাল ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা ও ছাত্রশিবিরের বায়তুলমাল সম্পাদকসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৯ জুন) রাতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় একটি মীমাংসিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডলের দুই ভাগনে কাকন ও নিরন জুনদহ এলাকায় বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের কর্মী এবং গাইবান্ধা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের ছাত্র আল আমিনকে মারধর করেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এর জেরে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উপজেলা জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরস্পরবিরোধী চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে উভয় সংগঠনের উপজেলা থেকে শুরু করে তৃণমূল ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ সংঘর্ষের জেরে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ফলে এ নিয়ে উভয় সংগঠনের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টায় একই স্থানে উভয় দলই স্থানীয় পলাশবাড়ী চৌমাথায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

