সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের

লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লামা ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার একটি স্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ এবং অপপ্রচার চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২৭ জুন) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু তৈয়ব স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু তৈয়ব এবং সিনিয়র শিক্ষক মো. নবীর উদ্দিন পরীক্ষার হল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, তিনটি শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রী মাদ্রাসার নির্ধারিত ড্রেস কোড (পোশাকবিধি) অনুসরণ না করে সাধারণ পোশাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

বিষয়টি লক্ষ্য করে অধ্যক্ষ তাদের সাধারণ পোশাকে আসার কারণ জানতে চান এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ড্রেস কোড মেনে চলার নির্দেশনা প্রদান করেন। মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ও সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সিনিয়র শিক্ষক মো. নবীর উদ্দিনও ভবিষ্যতে সকল শিক্ষার্থীকে ড্রেস কোড অনুসরণ করার বিষয়ে সতর্ক করেন।

কর্তৃপক্ষের দাবি, এই স্বাভাবিক ঘটনাটিকে পুঁজি করে একটি মহল মাদ্রাসার ধারাবাহিক সফলতা, সুনাম ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটি জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি সারা দেশের ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে নির্বাচিত ১০০টি শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা।

আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি ‘শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের পদক’ গ্রহণ করবে। একই অনুষ্ঠানে এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আবু সাঈদ মো. তারেক দেশসেরা ৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৩তম স্থান অর্জন করায় মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করবে।

এমন একটি গৌরবময় অর্জনের প্রাক্কালে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, সম্মানিত অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসার নির্ধারিত পোশাকবিধিও পুনরায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
বড় ছাত্রীদের জন্য: পেস্ট রঙের বোরকা, সাদা হিজাব অথবা সাদা ওড়না এবং সাদা রঙের পায়জামা/সালোয়ার।
ছোট ছাত্রীদের জন্য: পেস্ট রঙের কামিজ, সাদা হিজাব অথবা সাদা ওড়না এবং সাদা রঙের পায়জামা/সালোয়ার।
ছাত্রদের জন্য: পেস্ট রঙের পাঞ্জাবি ও সাদা রঙের পায়জামা।

এ বিষয়ে সিনিয়র শিক্ষক মো. নবীর উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, পরীক্ষার হল পরিদর্শনকালে দেখা যায়, তিনটি শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রী মাদ্রাসার নির্ধারিত ড্রেস কোড অনুসরণ না করে সাধারণ পোশাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। বিষয়টি লক্ষ্য করে অধ্যক্ষ তাদের কারণ জানতে চান এবং ভবিষ্যতে ড্রেস কোড মেনে চলার নির্দেশনা প্রদান করেন। অথচ এই স্বাভাবিক ঘটনাটিকে পুঁজি করে একটি মহল মাদ্রাসার ধারাবাহিক সফলতা, সুনাম ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বানোয়াট।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *