সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

ভৈরবে অর্থাভাবে চিকিৎসা না পাওয়া অসহায় রোগীর পাশে গরিবের বন্ধু খ্যাত ডা. মিজানুর রহমান কবির

ভৈরবে অর্থাভাবে চিকিৎসা না পাওয়া অসহায় রোগীর পাশে গরিবের বন্ধু খ্যাত ডা. মিজানুর রহমান কবির

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): যিনি নীরবে-নিভৃতে, প্রচারের আড়ালে থেকে প্রতিনিয়ত অসহায় ও সামর্থ্যহীন রোগীদের পাশে দাঁড়ান, তিনি ভৈরবের অতি সুপরিচিত ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন গরিবের বন্ধু খ্যাত চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কবির। সম্প্রতি এক দরিদ্র ও অসহায় রোগীর চিকিৎসায় তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া মানবিক হাত ভৈরবজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ঘটনাটি শেয়ার করে ভৈরবের স্থানীয় সমাজকর্মী রাসেল জানান, বেশ কিছুদিন আগে জটিল একটি সমস্যা নিয়ে ভৈরবের এক অত্যন্ত দরিদ্র ও সামর্থ্যহীন রোগী চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েকটি ব্যয়বহুল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু এত টাকা ব্যয় করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য ওই অসহায় রোগীর ছিল না।

কোনো উপায় না পেয়ে নিরুপায় রোগী সমাজকর্মী রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাসেল তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গরিবের বন্ধু খ্যাত চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কবিরকে ফোনে জানান। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ডা. কবির যে উদারতার পরিচয় দেন, তা সত্যিই বিরল। তিনি রাসেলকে বলেন, রাসেল, তোমরা তো সামাজিক কাজ করো। এই ভালো কাজে মাঝেমধ্যে আমাদেরও তোমাদের পাশে রেখো। কোনো সমস্যা নেই, রোগীকে এখনই আমার চেম্বারে পাঠিয়ে দাও। পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসার যা কিছু প্রয়োজন, আমি করে দিচ্ছি।

পরবর্তীতে রোগীকে ডা. মিজানুর রহমান কবিরের চেম্বারে পাঠানো হলে তিনি কোনো ফি ছাড়াই রোগীকে দেখেন। শুধু তাই নয়, রোগীর প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করিয়ে দিয়ে ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন।

মানবিকতার এখানেই শেষ নয়। পরদিন ডা. মিজানুর রহমান কবির নিজেই সমাজকর্মী রাসেলকে ফোন করে বলেন, রাসেল, এ রকম দরিদ্র, অসহায় ও সামর্থ্যহীন কোনো রোগী যদি টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারে, তবে নিঃসংকোচে আমার কাছে পাঠিয়ে দিও। কোনো সমস্যা নেই, আমি সাধ্যমতো বিনামূল্যে চিকিৎসা করে দেব।

ডা. কবিরের এমন নিঃস্বার্থ ও হৃদয়স্পর্শী কথায় তাঁর প্রতি ভৈরববাসীর সম্মান ও ভালোবাসা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমান সময়ে যেখানে চিকিৎসাসেবা বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগে সমালোচিত, সেখানে ডা. মিজানুর রহমান কবিরের মতো মানবিক চিকিৎসকেরা সমাজের জন্য একেকটি আলোকবর্তিকা।

এ বিষয়ে ডা. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে একজন চিকিৎসক হয়েছি। শুধু অর্থের বিনিময়ে নয়, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মধ্যেও যে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, অন্য কোনো কাজে ততটা শান্তি পাওয়া যায় না। আমি সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষ এই গুণী ও মানবিক চিকিৎসকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *