দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের জালালপুর এলাকায় অবৈধভাবে পুরাতন সিলভার গলিয়ে বার তৈরির কারখানা স্থাপনের কারণে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে এলাকাবাসীর প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে কারখানার মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত ৭ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের কারও হাত, পা, পিঠ ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিলভার গলানোর চুল্লি এখনও গরম রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও কারখানাটির কার্যক্রম চলমান ছিল। ঘটনার পরপরই কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থান ত্যাগ করেন। কারখানার আশপাশে তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল, বস্তাবন্দি উপকরণ এবং রান্না করা খাবার পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার তত্ত্বাবধায়ক ও প্রধান অভিযুক্ত সুলতানুজ্জামান সুতারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তারা জানান, পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা না করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি পরিচালিত হয়ে আসছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কারখানায় পুরাতন ক্যান, ওষুধের পাতা, গাড়ির রেডিয়েটর ও বিভিন্ন সিলভারজাতীয় বর্জ্য পদার্থ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গলিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদ করায় কারখানার মালিকপক্ষ তাদের সমর্থকদের নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ারও অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনাস্থল থেকে মালামালবোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। তবে থানায় নেওয়ার আগেই ট্রাকে থাকা রাসায়নিক পদার্থের কারণে আগুন ধরে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুলতানুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গুলির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এ ধরনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সংবাদ লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় আহতদের পক্ষ থেকে দোহার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

