সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

এবার এশিয়ান জিমন্যাস্টিকসের মঞ্চে লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৭ জিমন্যাস্ট

এবার এশিয়ান জিমন্যাস্টিকসের মঞ্চে লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৭ জিমন্যাস্ট

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): সিঙ্গাপুরের জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মিশন চীন। আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকসের আঙিনায় বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে প্রস্তুত বান্দরবানের লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের সাতজন প্রতিভাবান জিমন্যাস্ট। সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের পর এই তরুণ জিমন্যাস্টরা এবার পা রাখছেন আরও বড় ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে।

১৪ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চীনের জুনই (Zunyi) শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘১৩তম সিনিয়র এবং ১৯তম জুনিয়র পুরুষ আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ’। এশিয়ার সেরা জিমন্যাস্টদের এই মহারণে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করতে গত ১৩ জুন চীনের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন কোয়ান্টামের এই সাত জিমন্যাস্ট।

পাহাড়ের বৈরী প্রকৃতিকে জয় করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের জিমন্যাস্টিকসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এই সাত স্বপ্নসারথি হলেন- উহাইমং মার্মা, মেনটন টনি ম্রো, মংচিং প্রু ত্রিপুরা, প্রেনথৈ ম্রো, রাজীব চাকমা, উটিংওয়াং মার্মা ও ওয়েওয়ে সাই মার্মা।

পাহাড় থেকে বৈশ্বিক মঞ্চে- এক রূপকথার যাত্রা। কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের এই জিমন্যাস্টদের গল্প কেবল খেলাধুলার নয়; এটি কঠোর অধ্যবসায়, আত্মত্যাগ ও অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প।

সিঙ্গাপুরের মাটিতে যে সাফল্যের বীজ তারা বুনে এসেছেন, চীনের কঠিন ট্র্যাকেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে ব্যাকুল এই তরুণরা। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, একই প্রতিষ্ঠান থেকে একসঙ্গে সাতজন জিমন্যাস্টের এমন উচ্চ-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

চীনের মাটিতে এশিয়ার সেরা শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত আমাদের এই সাত জিমন্যাস্ট। তাদের নিখুঁত শারীরিক কসরত, মননশীলতা ও অদম্য স্পৃহা বিশ্বমঞ্চে সবাইকে টেক্কা দিক- সমগ্র বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রইল সেই শুভকামনা।

উল্লেখ্য, ৩ থেকে ৭ জুন সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ২১তম জুনিয়র ও সিনিয়র ওপেন আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ বিভিন্ন ইভেন্টে ৯টি পদক অর্জন করে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে রয়েছে ৭টি ব্যক্তিগত এবং ২টি দলগত পদক।

বাংলাদেশের অর্জিত ৭টি ব্যক্তিগত পদকের (৩টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ) সবকটিই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ঝুলিতে যায়। দলগত দুটি পদকের ক্ষেত্রেও জুনিয়র বিভাগের চারজন এবং সিনিয়র বিভাগের চারজনের মধ্যে দুজন করে ছিলেন কোয়ান্টামের শিক্ষার্থী।

বাংলাদেশের হয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের এই অর্জন জিমন্যাস্টিকস অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং সৃষ্টি করেছে আনন্দের জোয়ার। দলগত পদকসহ বাংলাদেশ দলের মোট ৯টি পদকের প্রতিটিতেই ছিল কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *