সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

রাজনীতি ছেড়ে এখন গাভী পালন করছেন সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদ রানা

রাজনীতি ছেড়ে এখন গাভী পালন করছেন সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদ রানার

আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): ১৯৮৫ সালে মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজে ভর্তি হন পাঁচবিবি থানার পূর্বপাশ এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা। পড়ালেখার পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। অল্প সময়েই তিনি ছাত্রদলের একজন সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

দলের প্রতি দায়িত্বশীলতা, আস্থাশীলতা ও নিষ্ঠার কারণে দলীয় প্রতিটি কর্মসূচিতে তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ছাত্রদলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে ১৯৯১ সালের দিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর হাতে থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করে। তবে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় অবস্থান করায় তিনি ওই দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

মাসুদ রানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক হওয়ায় ১৯৯৬ সালের দিকে ছাত্রদল থেকে যুবদলে যোগ দেন। যুবদলের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় না থাকলেও পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘদিন পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর জীবন-জীবিকার তাগিদে বর্তমানে তিনি রাজনীতি থেকে অনেকটা দূরে সরে গিয়ে বাড়িতে বিদেশি জাতের দুধেল গাভি লালন-পালন করছেন।

দলের নবীন ও প্রবীণ নেতারা জানান, মাসুদ রানা ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন। মাঠপর্যায়ে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে তাঁকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এবং জীবিকার তাগিদে এখন তাঁকে রাজনীতির মাঠে খুব একটা দেখা যায় না।

আক্ষেপ করে সাবেক এ নেতা বলেন, সুসময়ে নেতারা অনেক সময় কর্মীদের অবদান ভুলে যান। দিনের পর দিন দলের জন্য শ্রম দিলেও দুঃসময়ে কেউ খোঁজ নেয় না। রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই রাজনীতির মাঠ ছেড়ে এখন গাভী পালন করছি।

তবে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও মনের গভীরে আজও জিয়ার আদর্শ লালন করেন তিনি। বর্তমানে বাড়িতেই কয়েকটি বিদেশি জাতের গাভি পালন করছেন। তিন কন্যাসন্তানের জনক মাসুদ রানার সংসার এখন গাভীর দুধ বিক্রির আয়েই চলে।

একসময় ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিল-মিটিংয়ের পরিচিত মুখ হলেও এখন তাঁর ব্যস্ততা গোয়ালঘরকেন্দ্রিক। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর মতো তিনিও এখন অনেকটা নীরব। স্থানীয়দের মতে, তৃণমূলের এসব নেতাকর্মীরাই দলের প্রাণ। একে একে এসব নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে সাংগঠনিকভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মো. সাইফুল ইসলাম ডালিম বলেন, দলের দুর্দিনের সকল ত্যাগী কর্মীর যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *