মনিরুল ইসলাম ডাবলু, নলডাঙ্গা (নাটোর): নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর মহল্লায় জার্মানিপ্রবাসী সাগর কুলেন্তুনুর বাড়ি ও আঙিনা সেজেছে এক ব্যতিক্রমী সাজে। নিজ বাড়ির এক একর আয়তনের আঙিনায় বিশ্বকাপ ফুটবলে জার্মানির প্রতি সমর্থন ও স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে তিনি পুরো বাড়ি ও আঙিনাকে যেন এক টুকরো জার্মানিতে রূপান্তর করেছেন।
তার প্রিয় দল জার্মানিকে উপস্থাপন করতে প্রদর্শন করা হয়েছে ৪০টি জার্মান জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি রয়েছে ১০টি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, যা নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশকে সম্মান জানিয়ে জার্মানির পতাকার চেয়ে এক ফুট উঁচুতে স্থাপন করা হয়েছে।
বাড়ির দেয়াল ও টিনের চাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির ২০০টিরও বেশি গাছ জার্মান পতাকার কালো, লাল ও হলুদ রঙে রাঙানো হয়েছে। বাড়ির বড় আঙিনাটি ফুটবল মাঠের আদলে সাজানো হয়েছে। সেখানে জার্মানি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে গোলপোস্ট। মাঠের মাঝখানে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিকৃতি এবং জার্মানির চারবার বিশ্বকাপ জয়ের সাল উল্লেখ করা হয়েছে।
নান্দনিক এই আয়োজন মুগ্ধ করছে পথচারী ও দর্শনার্থীদের। অনেকে সেখানে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগর কুলেন্তুনুর বর্তমান বয়স ৩৬ বছর। তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর চট্টগ্রামের চকরিয়া ব্যাপ্টিস্ট মিশন হাসপাতালে প্যাথলজি বিষয়ে ডিপ্লোমা করেন। পাশাপাশি চকরিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার বাবা সুবাস কুলেন্তুনু ঢাকাস্থ আমেরিকান ক্লাবে চাকরি করতেন এবং মা কানন গমেজ গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেজো। তাদের কোনো বোন নেই।
২০১৪ সালের মে মাসে সাগরের বাবা মারা যাওয়ার পর একই বছরের সেপ্টেম্বরে বড় ভাই কল্লোল কুলেন্তুনু চাকরির জন্য বাহরাইনে যান। পরে বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় নভেম্বর মাসে সাগর কুলেন্তুনু বাহরাইন স্পেশালাইজড হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগে চাকরিতে যোগ দেন।
এরপর ২০১৬ সালে তিনি বাহরাইন থেকে জার্মানিতে নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনার জন্য যান এবং জার্মান ভাষা শেখেন। নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা অর্জনের পর জার্মানির ডর্টমুন্ডের একটি হাসপাতালে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি যশোরের মেয়ে এমলিনা সরকারকে বিয়ে করেন। বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুরে নিজ বাড়িকে জার্মান পতাকার আদলে সাজিয়েছিলেন। সেই সময়ও বর্ণিল সাজসজ্জা দেখে অতিথিরা বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।
একইভাবে বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে জার্মানির পতাকার আদলে বাড়ি, গাছপালা ও আঙিনা যেভাবে সাজানো হয়েছে, তা দেখে আগত দর্শনার্থীরা মুগ্ধ ও বিস্মিত হচ্ছেন।
সাগর কুলেন্তুনুর মা কানন গমেজ জানান, ছেলে জার্মানি থেকে ভিডিও কলে পুত্রবধূ এমলিনাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে। সে অনুযায়ী সব সাজানো হয়েছে। এটি দেখতে অনেক মানুষ আসছেন, যা দেখে আমার খুব ভালো লাগছে।
স্থানীয় সেন্ট যোশেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরলীন ডি কস্তা বলেন, আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। তারপরও জার্মানি দলের পক্ষে সাজানো এই মাঠে এসে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারিনি। সত্যিই নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে এই জার্মান বাড়ি।
বনপাড়া পৌর নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মেমন বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই জার্মান বাড়ির সংবাদ প্রচার হচ্ছে। এটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে এবং সময়ের আলোচিত সংবাদে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। সবাই এই ব্যতিক্রমী সাজসজ্জা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।

