ছোটন বিশ্বাস, (খাগড়াছড়ি): খাগড়াছড়িতে মারমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও সাম্প্রদায়িক উসকানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ মে ২০২৬) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে “বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ”, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেল মারমা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মারমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার এ এইট ফারুক ঢাকায় বসে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, যুগ যুগ ধরে পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও উসকানিমূলক বক্তব্য পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ধরনের মিথ্যাচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-
১। অবিলম্বে আবুল হোসেন ফারুককে আইনের আওতায় আনতে হবে।
২। তার অপপ্রচারের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে।
৩। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভ্রান্তি ছড়ানোর দায়ে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪। পার্বত্যাঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
অন্যথায় খাগড়াছড়ির শান্তিপ্রিয় মারমা জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে “বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ” কঠোর সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট উসকানিদাতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার ওপর বর্তাবে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে খাগড়াছড়ি সদর মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি ম্রাচাই মারমা, মানিকছড়ি মারমা ঐক্য পরিষদের সভাপতি আপ্রুশি মারমা, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সুইচিংহ্লা চৌধুরীসহ মারমা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

