সখীপুর (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাতের আঁধারে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত অসুস্থ প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার (১৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কালমেঘা গ্রামে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তিনি মারা যান।
পারিবারিক সূত্র জানায়, জামাল উদ্দিনের দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছিল। গত ১ আগস্ট গভীর রাতে তাকে কালমেঘা এলাকায় পৈতৃক ভিটার কাছের রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় ৪ আগস্ট তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শুক্রবার তাকে ভাতিজির বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
নিহতের ভাই আবদুল জলিলের অভিযোগ, সৌদি আরবে ১২ বছর কাজ করার সময় জামাল উদ্দিন তার উপার্জনের সব অর্থ স্ত্রীর নামে দেশে পাঠিয়েছিলেন। তিন মাস আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর স্ত্রী ও সন্তানেরা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
তবে স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেছিলেন, আড়াই মাস আগেই তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। আইনগতভাবে সম্পর্ক না থাকায় তাকে গাড়িতে করে নিজ গ্রামে রেখে আসা হয়েছিল।
বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান, গ্রামবাসী চাঁদা তুলে জামাল উদ্দিনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। মৃত্যুর পরও একইভাবে অর্থ সংগ্রহ করে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

