সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

সমাজের উন্নয়নেই যার মূল লক্ষ্য: দোহারের চৈতাবাতর যুব সমাজের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

দোহারের চৈতাবাতর যুব সমাজের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, কালের বার্তা

দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম চৈতাবাতরে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সামাজিক সংগঠন ‘চৈতাবাতর যুব সমাজ’। এটি একটি অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য সমাজের সার্বিক উন্নয়নে তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। সংগঠনটির মূল স্লোগান হলো ‘এসো আলোর পথে চলি, আলোকিত সমাজ গড়ি।’

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চৈতাবাতর যুব সমাজ নানা ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন ‘পরিবর্তন শুরু হয় নিজ গ্রাম থেকেই।’ এই লক্ষ্যেই সংগঠনটি নিয়মিতভাবে বহুমুখী সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

তাদের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

  • শিক্ষায় সহায়তা: দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বই ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান, ইসলামী লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন।
  • ধর্মীয় ও নৈতিক উন্নয়ন: জামা’আতে ৪০ দিন নামাজ আদায়কারীদের পুরস্কৃত করা এবং ওয়াজ মাহফিল আয়োজন।
  • স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ: নিয়মিত রক্তদান কার্যক্রম, অক্সিজেন সেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং অসহায় ও দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।
  • অবকাঠামো উন্নয়ন: রাস্তার লাইট ও গোরস্থানের লাইট স্থাপন এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন।

 

মানবিক সহায়তায় অগ্রণী ভূমিকা:

চৈতাবাতর যুব সমাজ শুধু উন্নয়নমূলক কাজেই নয়, মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও সবসময় সক্রিয়। দুর্যোগ বা সংকটময় মুহূর্তে তারা দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। জনগণের সুবিধার্থে সংগঠনটি দোহার থানার জরুরি যোগাযোগ নম্বর, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ অফিস ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্য সম্বলিত প্রচারপত্র জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া এলাকার রক্তদাতাদের তালিকা সংরক্ষণ করে তারা নিয়মিত রক্তদান কার্যক্রম পরিচালনা করে।

 

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার:

যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার জন্য সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করছে। মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে তারা নিয়মিত প্রচারণা চালায়। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে ইতিবাচক পথে রাখার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি স্কুল ও কলেজে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা, পোস্টার ক্যাম্পেইন এবং সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করে থাকে।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য- ভবিষ্যতে সংগঠনটিকে আরও সম্প্রসারিত করে একটি আদর্শ সামাজিক উন্নয়ন মডেল হিসেবে গড়ে তোলা। তারা অদূর ভবিষ্যতে চৈতাবাতরে ডিজিটাল হেল্পলাইন সার্ভিস, রক্তদাতা ডেটাবেজ এবং শিক্ষা-সহায়তা তহবিল চালু করতে চান।

উপসংহারে বলা যায়, যেখানে বর্তমান সমাজে উদাসীনতা বাড়ছে, সেখানে চৈতাবাতর যুব সমাজের মতো সংগঠনই সমাজে আশা জাগায়। এই তরুণরা প্রমাণ করেছেন- সমাজ উন্নয়নের জন্য বড় পুঁজি নয়, প্রয়োজন কেবল মানবিক মন ও সেবার ইচ্ছা।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *