বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে। তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। এরই মধ্যে তাঁর পারিবারিক জীবন, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে সম্পর্ক এবং মৃত্যুর আগের সময়ের কিছু ঘটনা নিয়েও নানা বক্তব্য পাওয়া যায়।
সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুমের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে স্ত্রী সামিরাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সালমান শাহ। তিনি একাধিকবার সামিরাকে তালাকের উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়। সামিরার কথিত পরকীয়ার বিষয় জানতে পেরে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে ওই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
তবে পারিবারিকভাবে বিষয়টির মীমাংসা হওয়ার পর সামিরাকে আবার সালমানের বাসায় ফিরিয়ে আনা হয় বলে জানা যায়। পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহ আবারও শুরু হয়েছিল বলেও বিভিন্ন বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে।
আলমগীর কুমকুমের দাবি, মৃত্যুর আগের রাতে সালমান শাহ ফোনে তাঁকে জানিয়েছিলেন, পরদিন সকালে সামিরাকে তালাক দিয়ে তিনি সিলেটে তাঁর মামার বাড়িতে যাবেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ফোনের পরই রহস্যজনকভাবে সালমান শাহর মৃত্যু ঘটে।
সালমান শাহর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে প্রচলিত বিভিন্ন দাবি ও বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় সামিরার ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ উঠেছে। তাঁর মামা আলমগীর কুমকুমসহ কেউ কেউ এ মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগ আদালত বা তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য উল্লেখ না করে সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদের নামও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। সালমান শাহর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও নানা বক্তব্য প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব দাবির ক্ষেত্রেও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বিবেচনা করা জরুরি।
সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চললেও ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন এখনো রয়েছে। তাঁর পরিবার, ভক্ত ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের অনেকেই প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্যের চূড়ান্ত সত্য উদ্ঘাটিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান ও জনপ্রিয়তা আজও অমলিন। তাঁর মৃত্যু ঘিরে যেসব অভিযোগ ও দাবি রয়েছে, সেগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

