সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

শ্রীমঙ্গলে ৩৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড: চা উৎপাদক মহলে স্বস্তি

শ্রীমঙ্গলে ৩৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড: চা উৎপাদক মহলে স্বস্তি

আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): শ্রীমঙ্গলে শুক্রবার দুই দফায় ৩৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এ বৃষ্টি শ্রীমঙ্গলের চা শিল্পাঞ্চলের চা উৎপাদক মহলে স্বস্তি এনে দিয়েছে। চা শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১ জানুয়ারি নতুন চা মৌসুম শুরু হওয়ার পর চা শিল্প এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে খরার কবলে পড়েছিল চা বাগানগুলো।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান জানান, শুক্রবার সকাল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ৩.৮ মিলিমিটার এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩২.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে চা গাছগুলো।

শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীম আল মামুন জানান, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও খরা চা উৎপাদনের বড় চ্যালেঞ্জ। শুক্রবারের বৃষ্টিপাত চা বাগানে সজীবতা ফিরে আনবে।

তিনি বলেন, চা গাছের সঠিক বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য বৃষ্টিপাত একটি অপরিহার্য উপাদান, যা চা গাছকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা সরবরাহ করে। চা গাছের বৃদ্ধি ও চা পাতা উৎপাদনের জন্য আদর্শ বৃষ্টিপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চা গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য ২০০০ মিলিমিটারের বেশি বার্ষিক বৃষ্টিপাত আদর্শ ধরা হয়।

তিনি আরও বলেন, চা গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য বৃষ্টিপাতের মাসিক বণ্টন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং চায়ের মৌসুমে তা কমপক্ষে ১০০ মিলিমিটার থাকা বাঞ্ছনীয়। মাসিক বৃষ্টিপাত ১০০ মিলিমিটারের কম হলে চা গাছ খরায় টিকতে পারে না। একটি পরিণত চা গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য দৈনিক ১.৩ মিলিমিটার (শীতকালে) ও ৬ মিলিমিটার (গ্রীষ্মকালে) পানির প্রয়োজন হয়।

খরা মোকাবেলায় বেশিরভাগ চা বাগানে স্প্রিঙ্কলার ইরিগেশনের মাধ্যমে সেচ প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে অনেক বাগানে পানির উৎস বা জলাধার না থাকায় সেটিও সম্ভব হয় না। তাই চা বাগানে প্রাকৃতিক বৃষ্টি অনেক উপকারী।

অনেক দিন অনাবৃষ্টির পর চা বাগানে হওয়া এ বৃষ্টি চা গাছের জন্য উপকার বয়ে আনবে। বৃষ্টির কারণে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা যোগ হবে এবং গাছ প্রয়োজনীয় পানি ও খাদ্যোপাদান সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। বৃষ্টিপাতের ফলে চা বাগানে লাইট প্রুনিংকৃত চা গাছগুলোতে দ্রুত নতুন কুঁড়ি বের হবে এবং হালকা ছাঁটাই করা চা গাছগুলোতে সজীবতা ফিরে আসবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *