সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জনের মাঝে ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ

লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জনের মাঝে ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামায় বন্যহাতির আক্রমণে নিহত ব্যক্তির পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ এবং হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) লামা বন বিভাগের আয়োজনে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যহাতির আক্রমণে নিহত একজনের পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জনের হাতে মোট ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়।

সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাসেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন লামা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মাসুম আলম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় বিভিন্ন রেঞ্জে কর্মরত রেঞ্জ কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, যারা হাতির আক্রমণে আপনজন হারিয়েছেন, তারাই বুঝতে পারেন কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া এই আর্থিক সহযোগিতা শুধুমাত্র সমবেদনার নিদর্শন।

তিনি আরও বলেন, হাতির আবাসস্থল দখল করে জনবসতি, জুমচাষ ও বাগান সৃজনের কারণে খাদ্যসংকট দেখা দিচ্ছে। খাদ্যের সন্ধানে হাতি লোকালয়ে নেমে এসে মানুষ ও ফসলের ক্ষতি করছে। এতে মানুষ ও হাতির মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য সরকার ইতোমধ্যে হাতি সংরক্ষণে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি হাতি-প্রবণ এলাকায় ‘ইআরটি’ নামে দল গঠন করা হয়েছে। এসব দলের সদস্যরা হাতি সংরক্ষণে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, হাতি জাতীয় সম্পদ। তাই হাতির আবাসস্থল নষ্ট না করে উন্মুক্ত রাখা জরুরি। কোনোভাবেই হাতিকে হত্যা করা যাবে না; বরং সবাইকে একসঙ্গে হাতি সংরক্ষণে কাজ করতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ি এলাকায় মানুষ ও বন্যহাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে বন বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি লাঘবে সরকার দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি বন্যহাতি সংরক্ষণ ও বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *