সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

লামায় ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনায় সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণকাজ মাঝপথে বন্ধ: ৬ গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ

লামায় ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনায় সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণকাজ মাঝপথে বন্ধ: ৬ গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারী চাককাটা সড়কের উন্নয়নকাজ ও ব্রিজ নির্মাণে চরম অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর অধীনে চলমান এ সড়কের কাজ অর্ধেক করার পর ঠিকাদার মেহেদী হাসান কাজ ফেলে রেখে চলে যাওয়ায় ৬টি গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দা এখন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক ও ব্রিজ সংস্কারের জন্য নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের পর ঠিকাদারের লোকজন কুমারী নিচপাড়া এলাকার পুরোনো ও সচল ব্রিজটি ভেঙে ফেলেন। অভিযোগ রয়েছে, পুরোনো ব্রিজটি ভেঙে এর রড, ইট ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্রিজ নির্মাণ না করেই কাজ ফেলে রাখায় বর্তমানে সামান্য বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢল ও পানির তোড়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কোনোমতে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি নড়বড়ে সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কাজই যদি না করা হয়, তবে সচল পুরোনো ব্রিজটি ভেঙে ফেলার কী প্রয়োজন ছিল?

চলমান ম্যাকাডাম (খোয়া বিছানোর) কাজ মাঝপথে বন্ধ থাকায় এবং সাম্প্রতিক বর্ষণে সড়কটি এখন সম্পূর্ণ কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও নালা সৃষ্টি হয়েছে। কোনো ধরনের যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সড়ক ও ব্রিজের এ জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া ৬টি গ্রামের কৃষিজীবী মানুষ তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, ঠিকাদার মেহেদী হাসান কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় তারা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা পাননি। বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট এলজিইডি (LGED) কর্তৃপক্ষ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, অতি দ্রুত এই জনগুরুত্বপূর্ণ কুমারী চাককাটা সড়কের কাজ পুনরায় শুরু করে ব্রিজটি নির্মাণ করা হোক এবং জনভোগান্তি দূর করতে দায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা প্রকৌশলী (LGED) আবু হানিফ বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জনভোগান্তি দূর করতে দ্রুত পুনরায় কাজ শুরু করে ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *