বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামায় চাঞ্চল্যকর সিএনজি ছিনতাই ও চালককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া সিএনজি ও মোবাইল ফোন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার ছোলারভাঙা হুজুরবাড়ি এলাকার মো. ফারুকের ছেলে আলাউদ্দিন (২৬), মামলার মূল হোতা কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মো. শওকত ওরফে শহীদ (৩৩) এবং কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হাজমপাড়া এলাকার রমজান আলী (৩০)।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গজালিয়া সিএনজি স্টেশন থেকে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি যাত্রীবেশে চালক নুরু আলমের সিএনজি ভাড়া নেন। গাড়িটি লামা বাজার-ফাইতং সড়কের নির্জন বদরটিলা এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালককে জোরপূর্বক গাড়ি থামাতে বাধ্য করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও বেদম মারধর করে মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে সিএনজি, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা চালক নুরু আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরু আলম বাদী হয়ে লামা থানায় একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পর লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদের নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান টিম গঠন করা হয়।
অভিযানকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৬ জুলাই বরগুনা থেকে আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ৭ জুলাই চট্টগ্রামের সাগরিকা এলাকা থেকে মামলার মূল হোতা শওকতকে এবং ৮ জুলাই টেকনাফ থেকে রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রমজান আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া সিএনজিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি আলাউদ্দিন ও রমজান আলী নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের নাম উল্লেখ করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

