সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

রাগাসার আতঙ্কে বিমানবন্দর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশাসন

রাগাসার আতঙ্কে বিমানবন্দর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘রাগাসা’-এর প্রভাবে হংকংয়ে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে স্কুল ও বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটির প্রশাসন একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।

টাইফুনের কারণে হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ৩৬ ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যদিও টার্মিনাল খোলা থাকবে, তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে মঙ্গলবার দুপুর ২টায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

হংকং অবজারভেটরি সোমবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ১ নম্বর টাইফুন সতর্কতা সংকেত জারি করেছে এবং রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এটি সংকেত নম্বর ৩-এ উন্নীত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া, মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে ৪টার মধ্যে সংকেত নম্বর ৮ জারি করা হতে পারে।

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি কা-চিউ সিকিউরিটি ব্যুরোকে জরুরি মনিটরিং ও সাপোর্ট সেন্টার সক্রিয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, মন্ত্রী ও বিভাগীয় প্রধানদের প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সুপার টাইফুনের প্রভাবে হংকং সরকার মঙ্গলবার ও বুধবার—এই দুই দিন দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

‘রাগাসা’ শব্দটি ফিলিপিনো ভাষার শব্দ, যার অর্থ ‘দ্রুতগতি’। সোমবার ভোর ৫টায় এটি লুজোন প্রণালী অতিক্রম করে। এ সময় টাইফুনের কেন্দ্রস্থলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৩০ কিমি পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষক চয় চুন-উইং বলেছেন, রাগাসার ব্যাপক পরিসর এবং দ্রুত গতি হংকংসহ গুয়াংডং উপকূলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এটি সরাসরি হংকংয়ে আঘাত না হানলেও এর প্রভাব ২০১৭ সালের হাটো এবং ২০১৮ সালের মাংখুত টাইফুনের চেয়েও বেশি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকালে রাগাসা হংকংয়ের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছাবে। এ কারণে নাগরিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। টাইফুনের প্রভাবে তলো হারবারে জোয়ারের উচ্চতা ৪ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা একটি রেকর্ড হতে পারে। এছাড়া, লেই ইউ মুন, হেং ফা চুয়েন, তুয়েন মুনের গ্রাম এবং তাই ও-এর মতো নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *