সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

মেহেরপুর শিক্ষা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কমিশনে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ

মেহেরপুর শিক্ষা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কমিশনে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ, কালের বার্তা

মেহেরপুর : অনিয়মই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে মেহেরপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে। মেহেরপুর জেলার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল আহসানের দুর্নীতি ও অনিয়ম কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। তিনি এখনো আওয়ামী শাসনামলের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চাকরি করে যাচ্ছেন এবং আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে দরপত্রের গোপন মূল্য বা রেট শিডিউল ফাঁস করে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল আহসানের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি গত ১১/০৯/২০২৫ তারিখে ফার্নিচার ক্রয়ের ওপেনিং টেন্ডারে ৭ গ্রুপের কাজ থাকলেও ১০ জন ঠিকাদার এই কাজে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু এই দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী রাকিবুল অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ৫ জন ঠিকাদারের মাঝে ভাগ করে দেন। তিনি পিপিআর ২০০৬ ও ২০০৮ সালের নিয়ম ভঙ্গ করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ৫ জন ঠিকাদারকে কাজ দেন। উক্ত অফিস থেকে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে যে, ৫ জন ঠিকাদারের সিমিলার কাজ না থাকায় পরবর্তীতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নিয়ে কাজ দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়টি নিয়ে মেহেরপুরের সকল ঠিকাদারের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অফিস ও ঠিকাদার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সপ্তাহে মাত্র দু’দিন অফিস করেন। অন্যদিকে অফিসের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, তার বিরুদ্ধে কাজের সময় বৃদ্ধি করতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীর নাম ভাঙিয়ে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া সহ কমিশনে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন গাংনীর রানা নামের এক ঠিকাদার। এছাড়াও একাধিক ঠিকাদার জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল আহসান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে মেহেরপুরে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে কতিপয় ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে দরপত্রের গোপন মূল্য বা রেট শিডিউল ফাঁস করে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মেহেরপুরে কর্মরত থাকা অবস্থায় নানা অনিয়মের কারণে গত ১৬ অক্টোবর তাকে যশোরে বদলি করা হলেও তার অনিয়মের নানা চিত্র জানাজানি হলে তাকে যশোরেও যোগদান করতে দেয়নি স্থানীয় ঠিকাদাররা, এমনকি তার যোগদান ঠেকাতে বিক্ষোভও করেছেন।

তিনি চাকরিজীবনে নানা অনিয়মে জড়িয়ে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কতিপয় ফ্যাসিস্ট ঠিকাদারদের পুনর্বাসনে ব্যস্ত রয়েছেন বলে একাধিক প্রমাণও পাওয়া গেছে। রাজশাহীতে বাড়ি হওয়ার সুবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে ইচ্ছেমতো টেন্ডার ভাগাভাগি করছেন। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তিনি কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নিজেই ঠিকাদারদের মধ্যে কমিশনের টেন্ডার আহ্বান করেন। তাকে যে ঠিকাদার সর্বোচ্চ কমিশন দিতে চান, নানা ফন্দিফিকির করে তিনি তাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আওয়ামী শাসনামলে তাকে পানিশমেন্ট (শাস্তি) স্বরূপ মেহেরপুরে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে বদলি করেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এরও আরেকটি কারণ আছে, সেটি হলো রাজশাহীর স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে বিগত কয়েক বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রচুর অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যাওয়ায় প্রকৌশলী রাকিবুল আহসান ও তার স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদের সন্ধান পান দুর্নীতি দমন কমিশন, যার প্রেক্ষিতে তাদের দুজনের নামেই রাজশাহী দুদক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। গত দুই বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অনিয়ম ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানিয়েছেন তিনি।

তার বিষয়ে ঠিকাদার আনোয়ার হোসেনসহ একাধিক ঠিকাদার বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল আহসান যোগদানের পর থেকে ঠিকাদারদের জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অন্যদিকে, গত ০৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ৩টি দরপত্র আহ্বান করেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী। দরপত্রে আইন বহির্ভূত, মনগড়া, কাল্পনিক ভাবে দরপত্র মূল্যায়নের নির্ণায়ক ধার্য করেন। উক্ত দরপত্রের সকল শর্ত পূরণ করার পর একমাত্র কাজ পাওয়ার যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনোনীত হলেও উক্ত ঠিকাদারকে সে কাজ দেওয়া হয়নি। তিনি আইন বহির্ভূতভাবে নিজের মনগড়া দরপত্র মূল্যায়ন করছেন এবং দরপত্রের শর্তপূরণ ছাড়াই অন্য প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে সুবিধা নিয়ে তাদেরকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। যার প্রেক্ষিতে ১৩ই অক্টোবর ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে সিপিটিইউ-এর আদর্শ দলিলে, ই,পি, ডাব্লউি-টু, এ, সিভি, পিপিআর ২০০৬ ও ২০০৮ এর দরপত্র মূল্যায়নে এমন কোনো নির্ণায়ক উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও তিনি মনগড়া নির্ণায়ক উল্লেখ করেছেন—এর কারণে উক্ত ঠিকাদার ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পিপিআর ২০০৬ ও ২০০৮ সালের নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলে আইনজীবীর মাধ্যমে উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল আহসানের বিরুদ্ধে। নোটিশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট সকল তথ্য ও দলিলপত্র সংরক্ষিত আছে মর্মে জানিয়েছেন আইনজীবীর মাধ্যমে, অনিয়ম করে যা করা হয়েছে তা বাতিল করা না হলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা বাধ্য হবেন। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ রেজাউল করীম বলেন, তার মক্কেলকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, এ কারণে তিনি লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রকৌশলী রাকিবুল আহসানের কাছে সার্বিক বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, একজন ঠিকাদার আমাকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন, তিনি তা দিতেই পারেন। তবে তার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগের বিষয় তিনি অস্বীকার করেন।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *