সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): মানবজমিন পত্রিকায় গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে জনাব প্রতীক ওমর কর্তৃক প্রকাশিত “বাড়ি দখল” শীর্ষক সংবাদের প্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে-

১। মানবজমিন পত্রিকার ২০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত “বাড়ি দখল” শীর্ষক সংবাদের প্রেক্ষিতে এই মর্মে প্রতিবাদ জানাচ্ছি যে, উক্ত সংবাদের প্রতিটি তথ্য মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক প্রতীক ওমরকে বিভ্রান্ত করে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। আমি উক্ত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

২। প্রকাশিত সংবাদের মধ্যে উল্লেখিত তালা ভেঙে ভবন দখল, ড্রিল মেশিন দিয়ে দরজা কাটা, কথিত শাপলা বেগম, তার বৃদ্ধ পিতা এবং পরিবারের সদস্যদের আঘাত ও হুমকি প্রদান, তাদের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া, পুলিশের নীরব ভূমিকা, শাপলা বেগমের ভবনের অংশ তার দুই ছেলের নামে হস্তান্তর, শাপলার স্বামী আশরাফুলকে বিভ্রান্ত করে আমার দ্বারা দলিল সম্পাদন, আমার নেতৃত্বে ভবনে হামলা চালানো, বাড়ি দখল, শাপলাকে টানাহেঁচড়া বা শ্লীলতাহানি করা, স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া, শাহাদুজ্জামান সাজু ও শুভর ওপর নির্যাতন, ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন এবং শাপলার জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত সকল তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

৩। বিগত ঈদুল ফিতরের সময় আমি স্বপরিবারে গ্রামের বাড়িতে অবস্থানকালে বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম (শাপলা বেগমের স্বামী), তার পিতা আইয়ুবুর রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য আমার বাড়িতে এসে উক্ত বাড়ি ক্রয়ের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে আমি উক্ত বাড়ির দলিল, নামজারি, সয়েল টেস্ট রিপোর্ট, প্ল্যান পাস, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য কর্তৃক অনুমোদনের কাগজপত্র এবং বিদ্যুৎ বিল পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হই যে, ভবন ও সংশ্লিষ্ট ২.৫ শতাংশ জমির প্রকৃত স্বত্বাধিকারী ও দখলদার আশরাফুল ইসলাম। অতঃপর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুসন্ধান ও ভেটিংয়ের মাধ্যমে কাগজপত্রের সঠিকতা ও মালিকানা যাচাই করে উক্ত জমি ও ভবন ক্রয়ে সম্মত হই।

৪। যথাযথ মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে আমি ০৮/০৪/২০২৬ তারিখে সাঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে ১৭০০ নম্বর সাব-কবলা দলিলমূলে উক্ত ২.৫ শতাংশ জমি ও তৎউপরিস্থ ভবন ক্রয় করি। উক্ত দলিলে শনাক্তকারী সাক্ষী হিসেবে বিক্রেতার পিতা মো. আইয়ুবুর রহমান, সংবাদে উল্লিখিত শাপলা বেগমের খালু মো. বাসেদুল ইসলাম এবং লিয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন। দলিল সম্পাদনের পর শনাক্তকারী সাক্ষীগণ এবং শাপলা বেগমের উপস্থিতিতে উক্ত সম্পত্তির দখল আমার নিকট হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে আইনানুগভাবে নামজারি সম্পন্ন করে আমি সম্পত্তিটি ভোগদখলে রাখি। পেশাগত কারণে আমি পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করায় আমার নিযুক্ত কেয়ারটেকার আসাদুজ্জামান সম্পত্তির দেখভাল করতেন। কিন্তু সবকিছু অবগত থাকা সত্ত্বেও শাপলা বেগম কতিপয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সহায়তায় ০৮/০৫/২০২৬ তারিখে জোরপূর্বক আমার কেয়ারটেকারকে ভবন থেকে বের করে দিয়ে আমাকে বেদখল করেন।

এর প্রেক্ষিতে আমার প্রদত্ত আইনগত ক্ষমতাবলে (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে ২০/০৫/২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট-০২ এর আদালত (সাঘাটা)-এ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় মামলা নং-৬৭/২০২৬ দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাঘাটা থানার নিকট প্রতিবেদন আহ্বান করেন এবং শাপলা বেগমকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর শাপলা বেগম স্বেচ্ছায় রাতের অন্ধকারে উক্ত ভবন ত্যাগ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমার প্রতিনিধি পুনরায় ভবনের দখল গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে আমি আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে উক্ত সম্পত্তির ভোগদখল করে আসছি।

৫। আমি কিংবা আমার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রকাশিত সংবাদের বর্ণিত পদ্ধতিতে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল, শারীরিক নির্যাতন বা হুমকি প্রদান করিনি। প্রকাশিত সংবাদের বিপরীতে আশরাফুল ইসলাম কখনো বলেননি যে তিনি নেশাগ্রস্ত বা অনলাইন জুয়ায় আসক্ত নন, কিংবা আমি তাকে বিভ্রান্ত করে দলিল সম্পাদন করিয়েছি। সুতরাং আমার ভবন ও জমি দখলের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

আমার রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের বাইরে ব্যক্তিগত ও বৈষয়িক বিষয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে এবং আমার সম্মানিত সিনিয়রকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা আমাকে রাজনৈতিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

৬। সাংবাদিক প্রতীক ওমর আমার বক্তব্য মোবাইল ফোনে গ্রহণের সময় আমি তাকে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য অনুরোধ করি এবং ভবন ক্রয়ের সম্পূর্ণ বিবরণ প্রদান করি। তা সত্ত্বেও তিনি একপাক্ষিক, অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেন। উপরন্তু, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন (Sub Judice) থাকা সত্ত্বেও তিনি আইন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা উপেক্ষা করে হলুদ সাংবাদিকতার আশ্রয়ে উক্ত মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন।

আমি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

 

ইতি

মো. জিল্লুর রহমান
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *