সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

মাদকবিরোধী লাইভ দেওয়ার পর যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর

মাদকবিরোধী লাইভ দেওয়ার পর যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে লাইভ করে নিরাপত্তা চাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই হামলার শিকার হয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের এক যুবদল নেতা। মাদক কারবারিরা দেশীয় অস্ত্র ও ‘সুইস গিয়ার’ দিয়ে আঘাত করে তাঁকে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার যুবদল নেতার নাম মোহাম্মদ মামুন ভূঁইয়া (৩৫)। তিনি ছয়সূতী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তর কান্দিগ্রামের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে মামুন ভূঁইয়া তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন ও নিজ দলীয় নেতৃত্বের কাছে আকুতি জানান।

লাইভে তিনি বলেন, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ফরিদা, তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ফোনে তাঁকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘বাসস্ট্যান্ডে এলে দুই মিনিট লাগবে তোকে ফেলে দিতে।’

মামুন লাইভে অভিযোগ করেন, হুমকি পাওয়ার পর দুপুর ২টা ১১ মিনিটে তিনি কুলিয়ারচর থানায় ফোন করে বিষয়টি জানান। কিন্তু দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে লাইভ করার সময় পর্যন্ত, অর্থাৎ দীর্ঘ ৪৬ মিনিটেও ঘটনাস্থলে পুলিশের কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীরা আমার মৃত্যুর পর এসে কী করবে?’ একই সঙ্গে এলাকায় মাদক কারবারিরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছে কি না বা প্রশাসনকে মাসোহারা দিচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তবে সকল হুমকির মুখেও মাদকের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মামুন বলেন, ‘গলায় যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়ে যাব।’

মামুন ভূঁইয়ার অভিযোগ, লাইভ শেষ করার পর শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি চায়ের দোকানের পাশে ওতপেতে থাকা কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালায়।

দক্ষিণ কান্দিগ্রামের ফরিদার ছেলে জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাঁকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় জাহাঙ্গীর, অন্তর (আহিদের ছেলে), নিরব (নিখিল মিয়ার ছেলে) ও আজিম (আক্কাস মিয়ার ছেলে)সহ কয়েকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে ‘সুইস গিয়ার’ (এক ধরনের ধারালো ছুরি) দিয়ে তাঁর গাল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।

মামুনের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর, ফরিদা কিংবা অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় এ বিষয়ে তাঁদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *