ছোটন বিশ্বাস (খাগড়াছড়ি): খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন মহালছড়ির দুর্গম এলাকার ৮৪ জন অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষ। পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির পরিচালনা করে আসছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন দীঘিনালা ও মহালছড়ি জোন পৃথকভাবে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে। এছাড়া প্রায় দেড় শতাধিক রোগীর চট্টগ্রামের লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে সফলভাবে ছানি অপারেশন সম্পন্ন করা হয়েছে।
দুর্গম অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংসদ সদস্যসহ উপকারভোগীরা।
উপকারভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আর্থিক সংকটের কারণে তারা চোখের অপারেশন করাতে পারেননি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহালছড়ি সেনা জোনের সহায়তায় তারা বিনামূল্যে চোখের অপারেশন করাতে পেরেছেন। এজন্য কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। অপারেশনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ায় তারা মহালছড়ি সেনা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মহালছড়ি সেনা জোনের মেডিকেল অফিসার মো. বোরহান উদ্দিন বায়েজিদ জানান, গত ৭ মে মহালছড়ি সেনা জোনের উদ্যোগে একটি চক্ষু ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত ৮৪ জন পাহাড়ি হতদরিদ্র মানুষকে চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে সফলভাবে চোখের অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশনের পর রোগীদের হাসিমুখে ফিরে যেতে দেখে তাদের প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। এবারের দুটি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ও লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। আমরা আশা করি, পাহাড়ে তাদের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। যেসব এলাকায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব নয়, সেখানে সেনাবাহিনী চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাহাড়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

