বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): মসজিদে জুমার নামাজের সময় মাদক সেবন ও ব্যবসা বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার জেরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর পবনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান মন্ডলের (৪৯) ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে উপজেলার পূর্ব গোপীনাথপুর গ্রামের গোরস্থান জামে মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান মন্ডল সাধারণ মুসল্লিদের উদ্দেশে মাদক বর্জনের আহ্বান জানিয়ে আলোচনা করছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব গোপীনাথপুর এলাকায় আসামিরা ধারালো হাঁসুয়া, লোহার রড, স্টিলের পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের গাঁটে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে তার হাত, বুক ও শরীরে গুরুতর জখম করা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের সহায়তায় তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা গ্রহণ ও পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান মন্ডল বাদী হয়ে মো. রবিউল ইসলাম ওরফে কবির (৪৫), মো. সোহেল শেখ (৩০), মো. ফরহাদ হোসেন (৩৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২৮)-সহ অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে পলাশবাড়ী থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

