সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

ভোরের রানী মর্নিং গ্লোরি: সকালেই মেলে সৌন্দর্যের দেখা

ভোরের রানী মর্নিং গ্লোরি: সকালেই মেলে সৌন্দর্যের দেখা

আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): ভোরের আলো ফুটতেই ছাদবাগানের লতাজুড়ে ফুটে ওঠে নানা রঙের ফুল। নীল, বেগুনি, গোলাপিসহ বিভিন্ন রঙের ফুলে তখন নান্দনিক সৌন্দর্যে ভরে ওঠে চারপাশ। তবে সেই সৌন্দর্য থাকে অল্প সময়ের জন্য। সকাল ১০টার দিকে ফুলগুলো ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়ে। এমনই এক আকর্ষণীয় লতানো ফুল হলো মর্নিং গ্লোরি- ভোরের রানী।

মৌলভীবাজার শহরের ফরেস্ট অফিস রোডের বাসিন্দা কল্লোল দেবের ছাদবাগানে দেখা মিলেছে এই ফুলের। শখের বসে অনলাইন থেকে মর্নিং গ্লোরির বীজ সংগ্রহ করে টবে রোপণ করেছিলেন তিনি। পরিচর্যায় গাছটি এখন বেশ বড় হয়ে লতিয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ধরেছে অসংখ্য ফুল।

কল্লোল দেব জানান, তাঁর ছাদবাগানের গাছটিতে নিয়মিত ফুল ফোটে। ভোরের দিকে ফুল ফুটতে শুরু করে এবং সকাল ১০টার দিকে ফুলগুলো নেতিয়ে যায়। গাছের লতা ও পাতার বিস্তার যত বাড়ে, ফুলের সংখ্যাও তত বাড়তে থাকে। ফলে একটি গাছেই একসঙ্গে অনেক ফুল ফুটে ছাদবাগানের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।

মর্নিং গ্লোরি মূলত Ipomoea গণের বিভিন্ন লতানো ফুলগাছের প্রচলিত নাম। এটি Convolvulaceae পরিবারের উদ্ভিদ। আকর্ষণীয় ফুল এবং দ্রুত বেড়ে ওঠা লতানোর কারণে শখের বাগানিদের কাছে এ ধরনের গাছ বেশ জনপ্রিয়।

ভোরে ফুল ফোটা এবং দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের সৌন্দর্য কমে যাওয়া মর্নিং গ্লোরিকে অন্য অনেক ফুলের তুলনায় আলাদা করে তুলেছে। সূর্যের আলো তীব্র হওয়ার আগেই তার রঙিন পাপড়ি যেন দিনের প্রথম সৌন্দর্যের বার্তা দিয়ে যায়।

শহরের ব্যস্ত জীবনে ছাদবাগান এখন অনেকের কাছেই প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরির একটি মাধ্যম। আর সেই ছাদবাগানে মর্নিং গ্লোরির মতো লতানো ফুল শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ভোরের একটি স্বল্পস্থায়ী অথচ মনোমুগ্ধকর দৃশ্যও উপহার দেয়।

ভোরে ফুটে সকালেই নেতিয়ে পড়া এই ফুল যেন মনে করিয়ে দেয়- প্রকৃতির সৌন্দর্য কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার জন্য নয়; অল্প সময়ের মধ্যেও সে মানুষকে মুগ্ধ করে যেতে পারে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *