আন্তর্জাতিক (ডেস্ক): উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার উপকূলে সম্প্রতি একটি মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় সুদানি শরণার্থী বহনকারী একটি নৌকায় আগুন লেগে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইওএমের রিপোর্ট অনুযায়ী, নৌকাটিতে মোট ৭৫ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে কেবল ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই জীবিতদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই ঘটনাটি সমুদ্রপথে অভিবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে। আইওএম তাদের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ভূমধ্যসাগরীয় রুটকে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসী রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইওএমের তথ্য অনুসারে, শুধু গত বছরেই এই পথে প্রায় ২ হাজার ৪৫২ জন অভিবাসী বা শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। এই রুটে এর আগেও এমন অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। যেমন, গত মাসে ইয়েমেন উপকূলে একটি নৌকাডুবিতে অন্তত ৬৮ জন অভিবাসী ও শরণার্থীর মৃত্যু হয়।
২০১১ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটি ইউরোপে পাড়ি দিতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার অভিবাসী লিবিয়ায় অবস্থান করছেন।
গাদ্দাফির শাসনামলে লিবিয়া অনেক অভিবাসীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল, কিন্তু তার পতনের পর দেশটি বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যকার সংঘাতে জর্জরিত। অধিকার সংগঠন এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, লিবিয়ায় অভিবাসীরা প্রায়শই নির্যাতন, ধর্ষণ এবং চাঁদাবাজির শিকার হন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন ঠেকাতে লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে সহায়তা দিলেও, সেই কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধেও নির্যাতন এবং অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই ভয়াবহ ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করা অভিবাসীদের জীবন কতটা সংকটাপন্ন।

