সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

বড় হও, তবে অহংকারে নয়- কৃতজ্ঞতায়

বড় হও, তবে অহংকারে নয় কৃতজ্ঞতায়

আমাদের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকেন যাদের অবদানকে কখনোই ছোট করে দেখা উচিত নয়। এই মানুষগুলো হলেন আমাদের বাবা-মা, শিক্ষক এবং মেন্টর। তাদের সাহায্য ও দিকনির্দেশনা ছাড়া আমরা জীবনে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না। “বড় হও, কিন্তু তার সামনে বড় হইও না- যে তোমাকে বড় করেছে” – এই প্রবাদটি সেইসব মানুষের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এই প্রবাদটির গভীরতা আমাদের পারিবারিক এবং সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, আমরা যতই সফল হই না কেন, আমাদের শেকড়কে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। যারা আমাদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছেন, তাদের সামনে অহংকার বা ঔদ্ধত্য দেখানো অত্যন্ত অনুচিত।

  • বাবা-মা: জীবনের প্রথম শিক্ষক এবং সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী। তাদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং ত্যাগ আমাদের চলার পথের পাথেয়। তাঁদের সামনে কখনও নিজেকে তাঁদের চেয়ে বড় ভাবা উচিত নয়।
  • শিক্ষক: বাবা-মায়ের পর শিক্ষকরাই আমাদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেন। তাঁদের শেখানো নীতি এবং আদর্শ আমাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করে।
  • মেন্টর বা শুভাকাঙ্ক্ষী: কর্মজীবনে বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে যাঁরা আমাদের পথ দেখান, তাঁদের প্রতিও আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। তাঁদের পরামর্শ আমাদের অনেক ভুল থেকে রক্ষা করে।

আধুনিক সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, কিছু মানুষ সামান্য সাফল্য অর্জন করেই নিজেদের মূলকে ভুলে যায়। তারা নিজেদের বাবা-মা, শিক্ষক বা মেন্টরদের অবজ্ঞা করে। এই ধরনের আচরণ শুধু অকৃতজ্ঞতাই নয়, বরং এটি আমাদের সংস্কৃতির পরিপন্থী। এই প্রবাদটি তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সাফল্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি আমাদের পেছনে থাকা মানুষগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

বড় হওয়া মানে শুধুমাত্র অর্থ, খ্যাতি বা ক্ষমতা অর্জন করা নয়; এর অর্থ হলো বিনয়ী হওয়া এবং যারা আমাদের জীবনে অবদান রেখেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। যে ব্যক্তি নিজের শেকড়কে সম্মান করে, সে জীবনে সত্যিকারের সফলতা অর্জন করে। তাই আসুন, আমরা সবাই এই নীতি মেনে চলি এবং যারা আমাদের বড় করেছেন, তাদের সামনে সবসময় বিনয়ী থাকি।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *