নারী জন্মের পর থেকেই সমাজের নানান বাঁধা ও শৃঙ্খলে জড়িয়ে থাকে। একদিকে পরিবার, অন্যদিকে সমাজ—সবখানেই যেন তাকে প্রমাণ করতে হয় নিজের মূল্য, নিজের অস্তিত্ব। জন্মের পর থেকে আজও অনেক পরিবারে কন্যাশিশুকে দেখা হয় বোঝা হিসেবে। ছেলেশিশুর মতো সমান সুযোগ-সুবিধা তারা পায় না। শিক্ষা থেকে শুরু করে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবাতেও বৈষম্য স্পষ্ট।
বড় হতে হতে নারীর জীবনে যোগ হয় নতুন চাপ। বাল্যবিবাহ, যৌতুক, গৃহস্থালির অবমূল্যায়িত শ্রম, সামাজিক কটুক্তি—সবই তার জীবনের যন্ত্রণা বাড়ায়। কর্মক্ষেত্রে গেলেও সমান কাজের জন্য নারীকে পুরুষের চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়। নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে অনেক সময় নারী তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগও হারিয়ে ফেলে।
নারীর কষ্ট কেবল অর্থনৈতিক নয়, মানসিকও। সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব পালনের পরও তাকে ‘গৃহিণী মাত্র’ বলে অবহেলা করা হয়। আবার কর্মজীবী নারীকে বলা হয়—“সংসার সামলাতে পারে না।” সমাজ যেন সব সময়ই তাকে বিচার করে, অথচ সহমর্মিতা দেখায় না।
শারীরিক নির্যাতন, হয়রানি, সামাজিক অসম্মান—এসব নারীর জীবনের প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ একই পরিবারে, একই সমাজে নারীই আবার মা হয়ে সন্তানকে মানুষ করে তোলে, অগাধ ত্যাগ স্বীকার করে পরিবার ও সমাজকে টিকিয়ে রাখে।
নারীর জীবনের কষ্ট কমবে কেবল তখনই, যখন পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত সবাই সত্যিকারের সমতা, সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। নারীকে বোঝা নয়, যারযার ধর্মের শক্তি হিসেবে দেখার মানসিকতা তৈরি হলে তবেই সমাজ বদলাবে। অবশ্যই তা ধর্মের রীতি অনুসারে।
– শাহাদাত হোসেন

