সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

প্রমাণ নেই, তবু মৃত্যুদণ্ড: নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের কঠোর সমালোচনায় হাইকোর্ট

প্রমাণ নেই, তবু মৃত্যুদণ্ড: নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের কঠোর সমালোচনায় হাইকোর্ট

ঢাকা: ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের বিচারকের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শামীম, রুহুল আমিন, মাকসুদ কাউন্সিলর ও আফসারউদ্দীনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো ন্যূনতম প্রমাণও পাওয়া যায়নি। অথচ তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ওই আসামিদের প্রায় সাত বছর কনডেম সেলে থাকতে হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, একটি সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা প্রত্যাশিত নয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারকের মধ্যে সংবেদনশীলতার অভাব দেখা গেছে। দণ্ডবিধি ও সাজা প্রদানের মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত না করা পর্যন্ত তাকে দায়রা আদালতের বিচারিক কাজ থেকে দূরে রাখা শ্রেয়।

রায়ে আরও বলা হয়, নুসরাতকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার নির্দেশ বাস্তবায়নে শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুরউদ্দিন মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। নুসরাত মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার জন্য শামীম, নুরউদ্দিন, জাবেদ ও জুবায়েরকে প্ররোচিত করেছিলেন সিরাজ-উদ-দৌলা।

হাইকোর্ট নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দিকে ‘ত্রুটিহীন’ ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সত্য ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল বলেও রায়ে বলা হয়েছে।

গত ২৪ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও মাদ্রাসাছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে চারজনকে খালাস দেওয়া হয়। আরও চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *