সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

প্রধান সহকারী আজিজুল হকের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তালাবাসীর

প্রধান সহকারী আজিজুল হকের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তালাবাসীর

শফিকুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী আজিজুল হকের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টায় তড়িঘড়ি করে এ তদন্ত সম্পন্ন করেন তদন্ত কমিটির দুই সদস্য- সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ জামিল এবং সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত সরকার।

একদিকে তদন্ত কমিটি দাবি করছে, তদন্তে যা পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতেই সঠিক প্রতিবেদন দেওয়া হবে। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি জানান, তদন্ত কমিটি তার বক্তব্য লিখিত আকারে গ্রহণ করেছে। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—প্রধান সহকারী আজিজুল হকের সঙ্গে তদন্ত কমিটির কোনো গোপন বৈঠক হয়েছে কি না।

তদন্ত কমিটির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সমবায় সমিতি আইন ২০০১ ও সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ লঙ্ঘন করে হাসপাতালে চাকরিজীবীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত সিএস/সাত/শ-১/২০২৬/১/১(৬) নং স্মারকে ডা. মো. ফরহাদ জামিলকে সভাপতি এবং ডা. জয়ন্ত সরকারকে সদস্য করে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তালার স্থানীয় জনগণ জানান, তালা হাসপাতালের প্রধান সহকারী আজিজুল হক নিজেকে সৎ ও আদর্শবান দাবি করলেও হাসপাতালের কর্মচারীদের ওভারটাইমের ১০ শতাংশ টাকা কেটে নিজের পকেট ভরেন। অধিকাংশ সময় তাকে হাসপাতালের কাজ ফেলে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দেখা যায়। এলাকার “জামাই” ও “কমান দুলাভাই” খ্যাত আজিজুল হক বিভিন্ন লোক দিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি-ধামকি দেন এবং সাংঘাতিক ভাষায় সম্বোধন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগে তিনি হাসপাতালকে দুর্নীতির আতুরঘরে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় হওয়ায় দাপট দেখিয়ে রীতিমতো হাসপাতালকে জিম্মি করে রেখেছেন। হাসপাতালের আর্থিক খাতের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বীজ বপন করেছেন তিনি। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে তালা বাজার আদর্শ সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সমবায় অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের অডিট রিপোর্টে সভাপতি হিসেবে তার নাম পাওয়া গেছে। বহু ডিপোজিট ভাউচারে সভাপতি হিসেবে আজিজুল হকের স্বাক্ষর রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাসপাতালে কর্মরত ৫০ জনেরও বেশি কর্মচারীর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। দুই বছর আগে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তারা টাকা না পেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

এছাড়া তালা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়ার অংশ থেকেও তিনি নিয়মিত মাশোয়ারা গ্রহণ করেন। অথচ লাইটের অভাবে সরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহনটি দিনের পর দিন অচল পড়ে আছে, ফলে গরিব ও অসহায় রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আজিজুল হকের এহেন দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তালার সর্বস্তরের জনগণ।

এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আদর্শ সমবায় ও ঋণদান সমিতির সভাপতি আজিজুল হক যে সরকারি চাকরি করেন, তা আমাদের জানা ছিল না। কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিবন্ধিত সমিতির দায়িত্ব পালন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত প্রধান সহকারী আজিজুল হক বলেন, তদন্ত কমিটি এসেছিল। আমার জবানবন্দি লিখিত আকারে নিয়ে গেছে। তারা যে ব্যবস্থা নেবে, তাই হবে।

তালা উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি এম.এ. হাকিম বলেন, টিএইচএ রাজীব সরদারের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্ত হয়েছিল, কিন্তু তার সুষ্ঠু বিচার তালাবাসী পায়নি। আজিজুল হকের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি হতে পারে। বিভাগীয় লোক হওয়ায় যেকোনোভাবে গড়িমশি করে তাকে বাঁচিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তদন্ত কমিটির সভাপতি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ জামিল বলেন, চিঠির মাধ্যমে দায়িত্ব পেয়ে আমরা গত সোমবার সকালে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তদন্ত করেছি। আমরা যা পেয়েছি, সেটিই সঠিকভাবে সিভিল সার্জনের দপ্তরে জমা দেব। এরপর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *