আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের মাকুল গ্রামের শিশু কাফির পথচলাকে। দুই পা বাঁকা অবস্থায় জন্ম নেওয়া কাফি কখনো মায়ের পিঠে চড়ে, আবার কখনো নিজেই কষ্ট করে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। কাফির এই সংগ্রামী পথচলা আজ এলাকায় অনুপ্রেরণার প্রতীক।
মাকুল গ্রামের ভ্যানচালক ও দিনমজুর মন্টু মিয়া এবং কোহিনুর বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় কাফি। জন্মের পর থেকেই তার দুই পা বাঁকা। ফলে সে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারে না। তবুও পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহের কোনো কমতি নেই। বাড়ির পাশের শাইলট্টি রায়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাফি। প্রতিদিন ধীরে ধীরে হেঁটে অথবা মায়ের সহায়তায় স্কুল ও প্রাইভেটে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সায়েলা বেগম চৌধুরী বলেন, কাফি খুব মেধাবী ও বিনয়ী। আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরা কখনো তাকে অবহেলা করে না। সিঁড়িতে ওঠানামা থেকে শুরু করে সব কাজে তাকে সহযোগিতা করা হয়।
কাফির শ্রেণিশিক্ষক বদিউজ্জামান আকন্দ বলেন, অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় কাফির প্রতি আমাদের খেয়াল একটু বেশি থাকে। আমরা তার সর্বাত্মক যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করি এবং তার সফলতা কামনা করি।
কাফির মা-বাবা ও এলাকাবাসীর দাবি, স্কুলে যাতায়াতের জন্য একটি হুইলচেয়ার পেলে তার কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে। তাদের প্রত্যাশা, প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে কাফি একদিন অনেক বড় মানুষ হবে। কাফির এই সংগ্রাম শুধু একটি শিশুর গল্প নয়, এটি হার না মানা এক অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, কাফির বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ আমাদের অভিভূত করেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাফির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

