খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার প্রান্তিকা ৩ নম্বর সড়ক থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।
শনিবার সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিজের ইচ্ছায় সম্প্রতি বিয়ে করেছিল আরফানা। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে স্বামীর কাছ থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে আবার স্বামীর কাছে যেতে চাইলে বাবা-মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মা আরিফা ইয়াসমিন মেয়েকে মারধর করেন। পরে বাবা আলিম হোসেন কাঠের একটি ফালি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই আরফানার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রাখা হয়। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় আরফানার মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পলাতক বাবা আলিম হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, আরফানা হোসেন বাবা–মায়ের একমাত্র সন্তান এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

