আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মহীপুর খিড়াপাতায় যেখানে একসময় ঝোপঝাড় ও আগাছায় ভর্তি পতিত জমি ছিল, সেই জমিতেই এখন গড়ে উঠেছে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান। প্রতিটি গাছে এত বেশি আম ধরেছে যে স্থানীয়দের ভাষায়, “বাগানে পাতার চেয়ে ফল বেশি।”
মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে প্রায় দেড়শ বিঘা জমিজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই আমবাগান। একসময় জমিটি এতটাই ঝোপঝাড়ে ঢাকা ছিল যে মানুষ ভয়ে এর পাশ দিয়েও চলাচল করত না। নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বাসিন্দা ও একটি ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ আইয়ুব আলী লিজ নিয়ে সেই পতিত জমিতেই গড়ে তোলেন এই আমবাগান।
কয়েক বছর আগে আইয়ুব আলী বিভিন্ন জাতের আমের চারা রোপণ করেন। আগের বছরগুলোতে নতুন গাছে অল্পসংখ্যক আম ধরলেও এবার প্রতিটি গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে আম। তিনি জানান, বাগান করতে তাঁর প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আমের বাজার শেষ পর্যন্ত ভালো থাকলে উৎপাদন খরচ উঠে লাভও হবে বলে আশা করছেন তিনি।
বাগান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে এত বেশি আম ধরেছে যে অনেক ডাল ফলের ভারে মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে। বাগানে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বিভিন্ন জাতের আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আম্রপালি, বারি-৪, নাক ফজলি, হাঁড়িভাঙ্গা, চোষা, ন্যাংড়া, ব্যানানা, খিরশাপাতিসহ প্রায় ১২টি জাতের আম।
আমের মৌসুমে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক বাগানে কাজ করেন। পতিত জমিতে বাগান গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এলাকার অর্থনীতিতে অবদান রাখায় আইয়ুব আলীর উদ্যোগের প্রশংসা করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আ. স. ম. সামছুল আরেফিন চৌধুরী (আবু)।
তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, জায়গাটি আগাছা আর জঙ্গলে ভরা ছিল। আজ সেখানে দৃষ্টিনন্দন আমবাগান গড়ে উঠেছে। এতে আমার এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।”
বাগানের মালিক আইয়ুব আলী বলেন, “একসময় এই জমিতে মানুষ যেত না। এখন এখানে হাজার হাজার আম ধরে। সঠিক পরিকল্পনা, পরিচর্যা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পতিত জমিতেও সোনা ফলানো সম্ভব।”
তিনি বেকার শিক্ষিত যুবকদের উদ্দেশে বলেন, “হাত গুটিয়ে বসে না থেকে ছোট-বড় যেকোনো কাজে নেমে পড়ুন। চেষ্টা করলে সফলতা আসবেই।”

