সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

পলাশবাড়ীতে জমির অধিগ্রহণের অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা: প্রতারকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ, তদন্ত সম্পন্ন

পলাশবাড়ীতে জমির অধিগ্রহণের অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা: প্রতারকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ, তদন্ত সম্পন্ন

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিক্রিত জমির অধিগ্রহণের অর্থ নিজের নামে উত্তোলনের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে মুনসুর আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জমির মালিক রেখা বেগম গত ১ মার্চ গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ মার্চ সরেজমিনে তদন্ত করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তফসিলভুক্ত জমিটি এল.এ. কেসের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ওই জমি অধিগ্রহণের পর বর্তমান দখলদারদের নামে ৩১ জুলাই ২০২০ তারিখে ৮ ধারার নোটিশ প্রদান করা হয়। তবে জমির প্রকৃত মালিক মোছা. রেখা বেগম হলেও ভুলবশত পূর্বের মালিক মুনসুর আলীর নামে ৮ ধারার নোটিশ জারি করা হয়েছে।

রেখা বেগম জানান, তিনি ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল তারিখে দলিল নং-২৪৫৩ এর মাধ্যমে মুনসুর আলীর কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন। জমির দলিল, খাজনা, খারিজ খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র তার নামে রয়েছে। তবুও অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নোটিশে তাকে বর্তমান দখলদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে অধিগ্রহণকৃত জমি ও জমির ওপরের অবকাঠামোর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি তিনি নিজেই। তাই ৮৩১ দাগের জমির অধিগ্রহণের অর্থ অন্য কেউ উত্তোলন করতে না পারে সে বিষয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন এবং যথাযথ তদন্ত করে ক্ষতিপূরণের অর্থ তার নামে প্রদান করার দাবি জানান।

জমির তফসিল: জেলা- গাইবান্ধা, থানা- পলাশবাড়ী, মৌজা- নুনিয়াগাড়ী, জেএল নং- ২৬৯, খতিয়ান নং- ৬৯৪, দাগ নং- ৮৩১, জমির শ্রেণি- ভিটি।

অভিযোগের সঙ্গে দলিলের ফটোকপি, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, খাজনা ও খারিজ খতিয়ানের কপি এবং প্রিন্ট করা পর্চা সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ মার্চ পলাশবাড়ীতে উক্ত জমি সরেজমিনে পরিদর্শন ও পরিমাপ করেন জেলা প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার এবং স্থানীয় সার্ভেয়ার। স্থানীয় সার্ভেয়ার মামুনুর রশিদ জানান, সড়কের সীমানায় এক পাশে ৮.৬ ফুট এবং অন্য পাশে প্রায় ১০.৬ ফুটসহ মোট ৪০.৬ ফুট জমি সড়কের অধিগ্রহণের অংশে পড়েছে। সরেজমিনে পরিমাপে অভিযোগকারীর দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, সরেজমিনে পরিমাপে সঠিক তথ্য পাওয়া গেলেও পরে ডিসি অফিসে প্রতিবেদন পরিবর্তন হয়ে যায়। অজ্ঞাত কারণে প্রতিবেদন বদলে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগকারী রেখা বেগম দাবি করেন, অভিযুক্ত মুনসুর আলী লোভের বশবর্তী হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করেছেন। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ তার নামে প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *