সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

পলাশবাড়ীতে সম্প্রীতি সমাবেশ, একই সময়ে রামমূর্তি নির্মাণের বিরোধিতায় বিক্ষোভ

পলাশবাড়ীতে সম্প্রীতি সমাবেশ, একই সময়ে রামমূর্তি নির্মাণের বিরোধিতায় বিক্ষোভ

বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, পারস্পরিক সহাবস্থান জোরদার এবং সামাজিক শান্তি অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে পৌরসভার চৌমাথা ফ্লাইওভারের নিচে বিশাল আকৃতির রামমূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নিজেদের “গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর সাধারণ জনগণ” পরিচয় দেওয়া একটি সংগঠন।

বুধবার (১০ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা উপজেলার ২ নম্বর হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্র গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালি মন্দিরের সভাপতি হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্য, তাঁর আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্ন এবং এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি না হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে কোনো ব্যক্তি বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত না হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) সোহানুর রহমান সোহাগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস সামাদ মণ্ডল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির আবু বক্কর সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশফেকুর রহমান রিপন এবং উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি দিলীপ চন্দ্র সাহা।

এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, একই সময়ে পলাশবাড়ী পৌরসভার চৌমাথা ফ্লাইওভারের নিচে রামমূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, বিশাল আকৃতির রামমূর্তি নির্মাণ সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক হতে পারে এবং বিষয়টি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বক্তারা মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগের সঙ্গে হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। তাঁদের ভাষ্য, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা মূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে সংগঠনের পক্ষে মুহাম্মদ তারিফুর রহমান, মারজুক ও আইনুল হক বক্তব্য দেন।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, একই দিনে সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান এবং রামমূর্তি নির্মাণের বিরোধিতায় পৃথক দুটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই বক্তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *