সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

পলাশবাড়ীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৩ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

পলাশবাড়ীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৩ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ নভেম্বর) রাতে উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের ময়মন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ময়মন্তপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ মন্ডলের ছেলে গোলাম কিবরিয়া শাহীন মন্ডল প্রায় পাঁচ বছর আগে স্থানীয় অবিলাশ চন্দ্রের কাছ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জামানতের বিনিময়ে প্রায় এক বিঘা পুকুর নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। ওই পুকুরে রুই, মৃগেল, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছিল। চাকরির সুবাদে গোলাম কিবরিয়া শাহীন বাইরে থাকায় পুকুরটির দেখভালের দায়িত্ব পালন করতেন তার বড় ভাই গোলাম মওলা মন্ডল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাছের খাবার দিতে গিয়ে পুকুরের পানিতে অসংখ্য মাছ মরে ভাসতে দেখা যায়। কিছু মাছ পানির ওপর সাদা হয়ে ভেসে ছিল। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন পুকুরপাড়ে ভিড় করেন। পরে পুকুরের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক মৃত মাছের স্তূপ দেখা যায়।

গোলাম কিবরিয়া শাহীন মন্ডলের পরিবারের অভিযোগ, পুকুরের জমিটি দেবোত্তর খাস জমি ছিল। প্রায় এক বছর আগে অবিলাশ চন্দ্র নিজের নামে জাল দলিল তৈরি করে জমিটির মালিকানা দাবি করেন এবং স্থানীয় তৈয়ব আলীর ছেলে তৌহিদুল ইসলাম নাদুর কাছে জমিটি বিক্রি করেন বলে তারা দাবি করেন। এরপর পুকুরের মাছ সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের বলা হয়। তবে মাছ চাষের জন্য তারা নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চান।

গোলাম মওলা মন্ডল বলেন, “অবিলাশ চন্দ্র আমাদের অগোচরে পুকুরের পাশের বাড়ির মালিক তৌহিদুল ইসলাম নাদুর কাছে জমি বিক্রি করে গোবিন্দগঞ্জে গিয়ে বসবাস করছেন। জামানতের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের পুকুরের মাছ নিধন করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। সকালে এসে দেখি পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল হক আকন্দ বলেন, একসঙ্গে এত মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পুকুরে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি তারা শুনেছেন এবং একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যাওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে শনিবার রাতে কারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে, তা তারা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি। তাদের মতে, মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পুকুরের পানির নমুনা ও মৃত মাছ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৌহিদুল ইসলাম নাদু। তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে পুকুরে মাছ নিধনের অভিযোগের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন এবং এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

ভুক্তভোগী গোলাম কিবরিয়া মন্ডল শাহীন জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে পুকুরে মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ নির্ণয়, জড়িতদের শনাক্ত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত ও পানির নমুনা বা মৃত মাছ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *