সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

পরিবেশ অধিদপ্তর ম্যানেজ হলেই হয় না, জরিমানা বা মামলা!

পরিবেশ অধিদপ্তর ম্যানেজ হলেই হয় না, জরিমানা বা মামলা!

বহাল তবিয়তে লামার ১৫টির বেশি ইটভাটা

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলায় পরিবেশ আইনকে তোয়াক্কা না করেই গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না পরিবেশ অধিদপ্তর—এমন অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেই বহাল তবিয়তে পরিচালিত হচ্ছে এসব অবৈধ ইটভাটা। পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই বছরের পর বছর পাহাড়ের মাটি ও বনের কাঠ পুড়িয়ে ইট উৎপাদন চললেও অদৃশ্য কারণে বন্ধ হচ্ছে না এসব ভাটার কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ফাইতং এলাকায় পরিচালিত ৪২টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় ২৬ লাখ টাকা এবং অন্য একটি মামলায় ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও বাকি মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে শুনানির অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। নতুন করে আরও পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকলেও জরিমানা কিংবা কঠোর শাস্তির আওতায় আসছেন না কোনো মালিকপক্ষ।

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেখা গেছে ফাইতং এলাকায়। সেখানে মোট ১৪টি জিকজ্যাক ইটভাটায় কয়লা ব্যবহার করা হলেও উপজেলার লাকরির বাকি ইটভাটাগুলোতে অবাধে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কার্যকর কোনো চিঠি পর্যন্ত ইস্যু করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

পরিবেশ ধ্বংসের এ কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বেশ কিছু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে নিয়মিতভাবে পাহাড় কেটে নিয়মবহির্ভূতভাবে ইট পুড়িয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে জাহাঙ্গীর আলমের এমএইচবি, শাহ আলমের এসবিডব্লিউ, এখলাছের ফাইভবিএম ও সেভেনবিএম, বেলাল কোম্পানির ইউবিএম (১), জলিল কোম্পানির ইউবিএম (২), বেদার ও জাহাঙ্গীরের এসএমবি, করিম কোম্পানির কেবিসি, মোজাম্মেলের ইভিএম, রিংকু, আরজু, রিয়াদ ও নাজু গংদের বিবিসি, এসএসবি ও বিবিএম, বেলাল কোম্পানির গংদের এবিসি (২), এবিসি (৩), নাছির উদ্দিনের পিভিএনসহ আরও একাধিক ইটভাটা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধায় সন্তুষ্ট রেখে এসব অবৈধ ইটভাটা নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানা না হওয়া এবং প্রশাসনের শিথিলতার কারণে দিন দিন পাহাড়ি বনাঞ্চল ও এলাকার জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়ছে। অবিলম্বে এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল হাসান সজীবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আর্থিক সুবিধার বিষয়টি সত্য নয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে, প্রত্যেকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, পাঁচটি ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বাদী হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর লামা থানায় এসব মামলা দায়ের করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের গত ১০ সেপ্টেম্বরের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৫(খ) ও ১২ ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর ৪ ও ৮(৩)(গ) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *