নবাবগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার নবাবগঞ্জে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর বংশাল এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মঙ্গল (৬০) এবং তার স্ত্রী লিপি বেগম (৪৫)।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আসামি মঙ্গল ভিকটিম শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে নিজের স্ত্রী লিপি বেগমের প্রত্যক্ষ সহায়তায় সে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত মঙ্গল পুনরায় শিশুটিকে ডাকার চেষ্টা করলে সে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পরিবারের কাছে পূর্বের লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়। ভিকটিমের পরিবারের দাবি, আসামি মঙ্গল দীর্ঘদিন ধরেই ওই শিশুকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৯, তারিখ- ১৫/০২/২০২৬)। মামলার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১০ বরাবর একটি অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন। এর প্রেক্ষিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১:৫৫ মিনিটে বংশাল থেকে তাদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১০ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

