মো. রাশেদুল ইসলাম (নাটোর): নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। গত ১৭ বছর তিনি একের পর এক জেল-জুলুম, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জেলার সবগুলো আসনে বিএনপিকে বিজয়ী করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
নিজের আসন ছেড়ে জেলার প্রায় সব আসনেই গিয়ে সময় দিয়ে প্রচারণা ও সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। তার প্রচেষ্টার ফলেই জেলার চারটি আসনেই বিপুল ভোটে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এত কিছুর পরও চারবারের এমপি দুলুকে এবার মন্ত্রী না করায় জেলার বিএনপি নেতাকর্মীসহ তার ভক্তদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০০১-২০০৬ সালে তৃতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি বিএনপি সরকারের ভূমি ও স্থানীয় সরকার উপমন্ত্রী হিসেবে পরপর দুটি মন্ত্রণালয়ে সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ফখরুদ্দীন–মঈনউদ্দীন সরকারের সময় থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময় তিনি একের পর এক জেল-জুলুম, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে প্রায় দেড়শ মিথ্যা মামলা দিয়ে বারবার তাকে জেলে আটক করেছে। এ সময়ে তিনি প্রায় সাড়ে সাত বছর কারাভোগ করেন।
তারপরও সবসময় দলকে গুছিয়ে রাখা ও সকল আন্দোলন-সংগ্রাম সফল করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলা ও থানায় তিনি সংগঠন গোছাতে কাজ করেছেন। বিএনপি নেতাকর্মীসহ নাটোরের সাধারণ মানুষ তাই আশা করেছিল, দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এবার অবশ্যই দুলু পূর্ণ মন্ত্রী হবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমন প্রচারণা ছিল ব্যাপক।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নাম না থাকায় হতাশ হয়েছেন নাটোরের মানুষ। অনেক নেতাকর্মী কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভোটের পর থেকেই দুলুর ভক্ত ও অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুলু স্বরাষ্ট্র বা এলজিআরডি মন্ত্রী হবেন-এমন আশা প্রকাশ করে দোয়া কামনা করছিলেন।
তার এক অনুসারী আবু ইউসুফ লাম ফেসবুকে স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় তারেক রহমান নাটোরে এসে বলেছিলেন- তিনি কখনো প্রধানমন্ত্রী হলে দুলু হবেন তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাই তারা আশা করেছিলেন, মন্ত্রণালয় যেটাই হোক না কেন, দুলু পূর্ণ মন্ত্রী হবেন-এটা নিশ্চিত।
দুলুর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, নাটোরের বিএনপিতে দুলুর অবদান পাহাড়সম। গোটা রাজশাহী বিভাগে দলকে সংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যখন তিনি মন্ত্রী ছিলেন, তখনও দক্ষতা ও সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তারপরও এবার তাকে মন্ত্রী না করায় তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
জেলা বিএনপির সদস্য নাসিম উদ্দীন নাসিম বলেন, দলের দুঃসময়ে ঢাকাসহ রাজশাহী বিভাগে দুলুর ভূমিকা দলের সবাই জানেন। দলের এমন সুসময়ে তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত ছিল।
এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তবে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কিছু বলার নেই। দলের চেয়ারম্যান সব জানেন ও বোঝেন। তিনি যা ভালো মনে করবেন, সেটাই আমি হাসিমুখে মেনে নেব।
প্রসঙ্গত, নাটোর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই এবার বিপুল ভোটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু এবং নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে আব্দুল আজিজ বিজয়ী হয়েছেন।

