মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আকবরনগর ও মিরারচর এলাকার আলোচিত সংঘর্ষ ও দুই প্রাণহানির ঘটনায় অভিযুক্ত এক নারী আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়ার ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, আমাদের সমাজব্যবস্থার বর্তমান নৈতিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধ নিয়ে।
জানা যায়, একটি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে আকবরনগর ও মিরারচর এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তুচ্ছ এই বিরোধের জেরে সৃষ্ট সংঘর্ষে দুটি প্রাণ ঝরে পড়ে এবং দুটি পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন এক নারী। সম্প্রতি আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি জামিনে মুক্তি পান।
আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে ওই নারী এলাকায় ফেরার পর স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁকে ফুলের মালা ও তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন। ছোট থেকে বয়স্ক- সব বয়সের মানুষের এই উল্লাস ও উচ্ছ্বাসের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ফেসবুকের নিউজফিডে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, যাঁকে দেখছেন, তিনি বড় কোনো অস্কার অর্জন করেননি বা দেশের জন্য অসাধারণ কোনো কীর্তিও গড়েননি। অথচ দুই পরিবার দুজন মানুষকে হারাল, আর সেই সংঘর্ষে আটক আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ায় এই উল্লাস! এভাবে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করাকে সমাজব্যবস্থা কীভাবে নিচ্ছে?
আইনজীবীদের মতে, জামিন পাওয়া মানেই আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া নয়। এটি কেবল মামলার বিচার চলাকালে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত একটি আইনি সুবিধা। মামলার সত্য-মিথ্যা নির্ধারিত হবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
কিন্তু আইনি এই প্রক্রিয়ার তাৎপর্য না বুঝে বা উপেক্ষা করে অভিযুক্তকে যেভাবে বরণ করা হয়েছে, তা সমাজে নেতিবাচক বার্তা ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা। সমালোচকদের প্রশ্ন, অপরাধ বা সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও কি তবে সমাজে বাহবা পাবেন? বিচারপ্রার্থী ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কষ্টের কথা একবারও না ভেবে এমন উন্মাদনা সমাজকে কোন অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

