সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

তালায় সাবেক জেলা পরিষদ সদস্যের মাকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা: হাসপাতালে ভর্তি

তালায় সাবেক জেলা পরিষদ সদস্যের মাকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা: হাসপাতালে ভর্তি

শফিকুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার তালায় সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ইন্দ্রজীৎ দাশ বাপী-এর মা অনিমা রাণী দাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। তিনি উপজেলার জালালপুর গ্রামের মৃত সন্তোষ দাশের স্ত্রী। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার জালালপুর গ্রামে নিজ দখলীয় জমির সুপারি গাছ থেকে ফল পাড়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সকালে অনিমা রাণী শ্রমিক আবুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সুপারি পাড়তে গেলে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা জালালপুর গ্রামের মৃত কেসমত কারিগরের ছেলে সিদ্দিক কারিগর (৪৫) ও তার ভাই হযরত কারিগর (৪২) তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে চোখের ওপর ও নিচে গুরুতর জখম হন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে ফোলা জখম করা হয়।

এর আগে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন গভীর রাতে এই চক্রটি ইন্দ্রজীৎ দাশ বাপীর ৪৫ শতক জমির পানের বরজ কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। ৭ আগস্ট সকালে জালালপুর গ্রামের মৃত কালিপদ দাশের ছেলে হরেকৃষ্ণ দাশ বরজে পানের গাছ কাটতে নিষেধ করলে সিদ্দিক ও হযরত তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং দায়ের উল্টো পিঠের আঘাতে বাম হাতের কনুইয়ের নিচে ভেঙে দেয়। পরে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে।

হরেকৃষ্ণ দাশকে চিকিৎসা দিতে গ্রাম্য চিকিৎসক রঞ্জিত চৌধুরী এলে তাকেও মারধর করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে রবিন দাশ ভ্যানে করে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রবিন দাশকেও বেধড়ক মারধর করে আহত করা হয়। এ ঘটনায় ওই এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী জালালপুর গ্রামের পরিতোষ দাশের ছেলে হিমাদ্রি দাশ ও স্বরজিৎ দাশের ছেলে পল্লব দাশ জানান, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান সিদ্দিক কারিগর অনিমা রাণী দাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে পিটাচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

অনিমা রাণীর বড় ছেলে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ইন্দ্রজীৎ দাশ বাপী বলেন, আমি ব্যবসায়িক কাজে এলাকার বাইরে থাকার সুযোগে আমার মা সুপারি পাড়তে গেলে প্রতিবেশী সিদ্দিক কারিগর ও তার ভাই হযরত কারিগর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে পিটিয়ে জখম করেছে। অতীতেও তারা আমার ৪৫ শতক জমির পানের বরজ ধ্বংস করেছে। আমি তালা সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আবেদন করলে কিছুদিন শান্ত ছিল, এখন আবার নির্যাতন শুরু করেছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *