সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

তালায় ভোগদখলীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা: হামলায় আহত-২

তালায় ভোগদখলীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা: হামলায় আহত-২

‎শফিকুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা): ‎সাতক্ষীরার তালা উপজেলার রায়পুরে দীর্ঘদিনের (ক) তফসিল ভুক্ত জমি ডিসিয়ার নিয়ে ভোগদখলীয় থাকা অবস্থায় জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা করেন উপজেলা বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা ও তার ক্যাডার বাহিনী। ঘটনাটি সোমবার ৯ মার্চ সকালে উপজেলার রায়পুর গ্রামে ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষ সুশান্ত মন্ডল ও তার স্ত্রী লিলিমা মন্ডল বাধা দিলে দুজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এরমধ‍্যে লিলিমা মন্ডলকে পিটিয়ে বাঁহাত ভেঙ্গে দেওয়া হয় । এদের সাহায্যের জন্য লক্ষীকান্ত মন্ডলের স্ত্রী কাকলী মন্ডল এগিয়ে আসলে তার পরিধেয় কাপড় ছিড়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় লিলিমা মন্ডল কে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
‎
‎প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তালা উপজেলার রায়পুর মৌজার ১০৭ নং খতিয়ানের ৩৫৭ ও ৩৬২ দাগের ১ একর ২১ শতক জমির মধ্যে হতে ৭০ শতক জমি ১৯৬২ সালে (ক) তপশিলি ভূক্ত হয়। ১৯৭৬ সাল থেকে রায়পুর গ্রামের মৃত্যু রাজেন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে ধীরেন্দ্র নাথ মন্ডল এই জমি ৪৪১ ও ৪৪২ দাগের ৭০ শতক জমি ইজারা নিয়ে একপাশে কাঁচা বসত ঘর তৈরী করে বসবাস করে এবং বাকি জমিতে চাষাবাদ করে। ৫ বছর পূর্বে ধীরেন্দ্র নাথ মন্ডলের মৃত্যুর পরে তার ওয়ারেশগণ ইজারা নিতে বিলম্বের সুযোগে গত ৫ আগষ্টের প্রক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দলীয় ক্যাডার, এলাকার প্রথম শ্রেণীর টাউট, সন্ত্রাসী, একাধিক মামলার আসামী মাছিয়াড়া গ্রামের মৃত্যু আক্কাজ পাড়ের ছেলে নজরুল পাড় ও উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতার নিকট আত্মীয় রায়পুর গ্রামের মৃত্যু অধীর বাছাড়ের ছেলে প্রশান্ত বাছাড়ের নামে একশনা বন্দোবস্ত নেয়। এর পর থেকে সন্ত্রাসী নজরুল  প্রায়ই তাদের ভিটাবাড়ি উচ্ছেদ করার জন্য হুমকি ধামকি  দেয়। এই নজরুলের ভয়ে তারা বাড়ি হতে বেরুতে ভয় পায়। রাস্তা আটকিয়ে, কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। হিন্দু সম্প্রদায় এর এনিমি জমির ভিতরে মুসলমান ঢুকিয়ে চাপ সৃষ্টি করে উচ্ছেদের পায়তারা করেন বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা।
‎
‎এই একই জমি নিয়ে উপজেলা বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা সমূর্ণ দখলের জন্য পক্ষভূক্ত হয়ে সাতক্ষীরা এডিএম আদালতে মামলা দায়ের করে গোপনে রায় করে নেয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানা জানি হলে সুশান্ত মন্ডল ও লক্ষীকান্ত মন্ডল একই মামলায় পক্ষভূক্ত হয়।
‎
‎সুশান্ত মন্ডলের ছেলে স্বপন মন্ডল বলেন, ১৯৭৬ সাল থেকে আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই জমি ইজারা নিয়ে বাড়িঘর বানিয়ে বসবাস করে। গত ৫ আগষ্টের পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায় ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান একাধিক মামলার আসামী নজরুল ও তার শ্যালক  প্রশান্ত বাছাড়ের নামে একশনা বন্দোবস্ত নিয়ে আমাদের ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। আমরা হিন্দু মানুষ, সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকি। মৃনাল রায়ের ইন্দনে সে প্রায়ই পথ আটকিয়ে আমাকে হত্যা করতে চায়। সে বাজারের মধ্যে প্রকাশ্যে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলো। গতকাল মৃনাল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান নজরুল পাড় জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে।
‎এছাড়াও মৃণাল কান্তি রায় নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জমি দখল, গায়ের জোরে অন্যের গাছ কেটে নেয়া, টেন্ডারবাজি, ঘের দখল, নিজেই ২ টি খাদ্য বান্ধব ডিলারশিপ বাগিয়ে নেয়া, চাঁদাবাজির টাকায় ভাগ বসানো তার বর্তমান নেশায় পরিনত হয়েছে। শুধু এতেই ক্ষ‍্যান্ত না হয়ে আমাদের ভিটেবাড়ি জবর দখল করে নিতে গেলে আমার মা লিলিমা মন্ডল, বাবা সুশান্ত মন্ডল বাঁধা দিতে আসলে মৃনাল ও নজরুল লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মা’র হাত ভেঙে দেয় এবং বাবা কে পিটিয়ে আহত করে। তাদের সহযোগিতার জন্যে আমার কাকি কাকলী মন্ডল এগিয়ে আসলে তার পরিধেয় কাপড় ছিড়ে সন্ত্রাসী নজরুল শ্লীলতাহনির চেষ্টা করে। আমি বাড়ি ফিরে মাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন‍্য নিয়ে যাই। এসময় সুশান্ত মন্ডলের ছেলে স্বপন মন্ডল প্রশাসনের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট সুষ্ট বিচার দাবি করেন।
‎
‎এব‍্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মৃনাল কান্তি রায় বলেন, আমি ওদের মারব কেন। তাদের যদি মারতে হয় তাহলে আমি মারব কেন লোক আছে না আমার। আর যদিও মেরে থাকি তাহলে ফৌজদারী আইন আছে সেই আইনে আমার নামে মামলা করুক আমি পারলে ঠেকাবানে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *