শফিকুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের শিরাশুনী ডায়ের বিল থেকে জমির মালিকদের আপত্তি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছিল একটি চক্র। ‘ফুঁসে উঠেছে জমির মালিকসহ এলাকাবাসী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসানের নির্দেশনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান ওই বিল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়। জাকির হোসেন নামে এক সরকারি কর্মকর্তার নির্দেশে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছিল তারা।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আব্দুর রশিদ, জামাল মোড়লসহ অনেকে জানান, তালার শিরাশুনী গ্রাম প্রতি বছর বর্ষাকালে প্রায় পাঁচ মাস পানিতে তলিয়ে থাকে। রাস্তাঘাট ও ফসলের ক্ষেত পানিতে ডুবে যায়। এই এলাকা থেকে এভাবে বালু উত্তোলন করা হলে সেখানে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তারা অভিযোগ করেন, শিরাশুনী গ্রামের সরকারি কর্মকর্তা জাকির হোসেন জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করছেন। শিরাশুনী গ্রামের ছবেদ আলীর ছেলে বাবুল আক্তার এবং খালেকের ছেলে আব্দুল লতিফ লিটন হ্যামার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। জাকির হোসেন আগেও বাড়ি নির্মাণের সময় এই বিল থেকে বালু তুলেছিলেন। অতীতে বালু উত্তোলনের কারণে এই বিলে কোনো ফসল হতো না। গত ১০-১২ বছর ধরে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় বিলটি ধীরে ধীরে উঁচু হতে শুরু করেছে। এভাবে থাকলে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে ফসল উৎপাদন সম্ভব হতো। কিন্তু আবার বালু তুললে ভবিষ্যতে এই জমিতে আর কখনো ফসল ফলানো সম্ভব হবে না।
এলাকাবাসী আরও বলেন, এই বালু ব্যবসায়ী চক্র প্রায় ছয় মাস ধরে বালু তুলে বিক্রি করছে। প্রশাসন দেখেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বাররাও কখনো তাদের বাধা দেননি। তাদের ধারণা, উপরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের যোগাযোগ থাকায় তারা নির্বিঘ্নে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান বলেন, শিরাশুনী গ্রামের ডায়ের বিল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ আবার বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

