ডেস্ক: ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে গাজার জনগণের জন্য মানবিক ত্রাণ সহায়তা নিয়ে সমুদ্রপথে এগিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌ-বহরে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মানবাধিকারকর্মী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রুহি লোরেন আখতার। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মানবিক মিশনে যুক্ত রয়েছেন।
বুধবার (১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন এই কর্মী। তিনি জানান, নৌবহরের অন্যান্য জাহাজের ঠিক পেছনে ‘সামারটাইম জং’ নামের একটি জাহাজে তিনি অবস্থান করছেন।
ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় রুহি লোরেন লিখেছেন, আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞা এবং আশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। নৌ-বহরের এই দলটি মানবিক সহায়তা নিয়ে ইসরায়েলি বাধা উপেক্ষা করে গাজায় পৌঁছানোর শেষ চেষ্টা করছে।
৪৪টি দেশের ৫০০ জন মানুষ নিয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক নৌ-বহরটি গাজার মানুষের জন্য সমুদ্রপথে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। এই বহরে রুহি লোরেন আখতার ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামের নাগরিকসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা রয়েছেন।
ইংল্যান্ডের নর্থাম্বারল্যান্ডের মোরপেথে জন্মগ্রহণকারী রুহি লোরেন আখতারের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশে। তাঁর বাবার নাম কাপ্তান মিয়া, যিনি বিলাত প্রবাসী বাংলাদেশি। তিনি বর্তমানে এলসউইক ওয়ার্ডে বসবাস করেন এবং পেশায় একজন মানবিক সহায়তা কর্মী ও অধিকারকর্মী।
রুহি লোরেন ‘রিফিউজি বিরিয়ানি অ্যান্ড ব্যানানাস’ (আরবিবি) নামের একটি মানবিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। এই সংস্থাটি যুদ্ধ ও সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমানে তাঁর সংস্থার কার্যক্রম গাজা ও গ্রিসে চালু রয়েছে।
বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ রুহি ২০২৫ সালের অক্টোবরে নর্থ ইস্ট বাংলাদেশি অ্যাওয়ার্ডে ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা লাভ করেছিলেন।

