সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

কুষ্টিয়া জেলা বারের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ

কুষ্টিয়া জেলা বারের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অ্যাডিশনাল জিপি) এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, জিপি অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন গত বছর পবিত্র হজে যাওয়ার সময় অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদকে ২৯ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ২০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত জিপির দায়িত্ব দিয়ে যান। এই সুযোগে তিনি দৌলতপুর চৌকি আদালত বাদে কুষ্টিয়া জেলা জজের বিভিন্ন আদালতের সরকারি মামলার নিষ্পত্তি বিলে মোকদ্দমার প্রকৃত মূল্যমান (তায়দাদ) অপেক্ষা অধিক মূল্যমান দেখিয়ে, মিথ্যার আশ্রয়ে সরকার নির্ধারিত ফি-এর প্রায় দ্বিগুণ ফি উল্লেখ করে নিজ স্বাক্ষরিত ফি বিল ডিসি কোর্টের রেভিনিউ মুন্সিখানায় দাখিল করেন।

জিপি অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন ১৭ জুন ২০২৫ তারিখে দেশে ফিরে এসে ১৮ জুন ২০২৫ তারিখে অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি জেলা জজ ও জেলা প্রশাসক, কুষ্টিয়াকে লিখিতভাবে অবহিত করেন।

জিপি অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন জানান, সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর মাঝামাঝি সময়ে তিনি জানতে পারেন যে, হজ শেষে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরও অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে অবৈধ ফি বিলের প্রথম বিলের ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা (বিল নং ৪৪/২৪-২৫, চেক নং ৩১২০১০৩, তারিখ ২৫/০৬/২০২৫) নিজ নামে গ্রহণ করে নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা দেন এবং এককভাবে টাকা আত্মসাৎ করেন।

এছাড়া দ্বিতীয় বিল নং ০১/২০২৫-২৬, চেক নং ২১-স/৩২৪৭০০১, তারিখ ০৪/০৯/২০২৫ অনুযায়ী ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার চেক নিজ নামে গ্রহণ করে ০৭/০৯/২০২৫ তারিখে নিজেই উত্তোলন করে নিজের হিসাবে জমা দেন।

এই প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে জিপি অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন জানান, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), কুষ্টিয়াকে মৌখিকভাবে অবহিত করেন এবং তদন্তপূর্বক প্রকৃত ফি বিল নির্ধারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে অন্যান্য অতিরিক্ত জিপি ও এজিপিদেরও বিষয়টি জানান।

তিনি আরও বলেন, ১৭/১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ তাঁর নিজ হিসাব থেকে দ্বিতীয় ফি বিলের ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করে তাঁর হাতে দেন। পরবর্তীতে তিনি ওই টাকা থেকে নিজে এবং অন্যান্য অতিরিক্ত জিপি ও এজিপিদের প্রাপ্য অংশ বণ্টন করে দেন।

জিপি মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “আমার মাধ্যমে বণ্টন করা ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে যদি সরকারের কোনো অতিরিক্ত টাকা থেকে থাকে, তাহলে আমি এবং অন্যান্য অতিরিক্ত জিপি ও সহকারী জিপিরা তা ফেরত দিতে সর্বদা প্রস্তুত আছি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি আদালতের প্রকৃত তায়দাদের তুলনায় অধিক তায়দাদ দেখিয়ে প্রকৃত বিলের চেয়ে বেশি অর্থের বিল দাখিল করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ কর্তৃক ডিসি কোর্টে দাখিলকৃত বিলের বিভিন্ন আদালতের মামলায় উল্লেখিত তায়দাদ এবং আদালতে সংরক্ষিত স্যুট রেজিস্টারে উল্লেখিত তায়দাদ যাচাই করলেই প্রকৃত তায়দাদের চেয়ে অধিক তায়দাদ দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল দাখিল ও অর্থ উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যাবে।

এদিকে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অ্যাডিশনাল জিপি) এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। এই বিলের টাকা উত্তোলনের আগে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হয়। এ বিল নিয়ে আমাদের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল, তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কার্যালয়ে বসে মীমাংসা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *