মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’-এর ব্যানারে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ১৪ অক্টোবর মঙ্গলবার ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’-এর ব্যানার হাতে নিয়ে একটি গ্রামীণ সড়কে মিছিল করছেন। এ সময় তাঁরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন।
গত ১১ অক্টোবর বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ আহমেদ রবিন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও ও পোস্ট শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মিথ্যা মামলা আর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কখনো আদর্শকে দাবিয়ে রাখা যায় না। কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রলীগের নির্দেশে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের দুর্দান্ত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত!’
তিনি আরও লেখেন, ইতিহাস সাক্ষী, কোনো অপপ্রচার বা অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ছাত্রলীগের আদর্শিক চেতনা ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে স্তব্ধ করা যায়নি, যাবেও না। আমাদের লড়াই রাজপথে ছিল, আছে এবং রাজপথেই এর সঠিক জবাব দেওয়া হবে।
ওয়ালিদ আহমেদ রবিন তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, ‘আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবা না!’ সত্য ও ন্যায়ের জয় সুনিশ্চিত, ইনশা আল্লাহ। খাইরুলসহ রাজপথের সব যোদ্ধাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘দেখা হবে রাজপথে!’
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও ও পোস্ট শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ আহমেদ রবিনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্যোগে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ১৪ অক্টোবর মঙ্গলবার এ ঘটনায় কুলিয়ারচর পৌর এলাকার তাতারকান্দি গ্রামের মো. মুখলেছুর রহমানের ছেলে ও কুলিয়ারচর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. সিরাজুল ইসলাম (৩৮) বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ০৯।
মামলায় কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে খাইরুল (২৮), মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আবু বাক্কার (৫০), আবু বাক্কারের ছেলে অনিক (২৫), মৃত ইরা মিয়ার ছেলে মারুফ (২৪), মির্জালীর ছেলে কামাল (২৫), এমদাদের ছেলে ছোটন (২৫) ও মুরাদ (২৪), কাজলের ছেলে পাভেল (২৬), জাহাঙ্গীরের ছেলে মুস্তাকিন (২৬), জিল্লু মিয়ার ছেলে আনু মিয়া (২৫), হাসান আলীর ছেলে সাদেক (২৬), শাহ আলমের ছেলে রাকিব (৩২), আতেম আলীর ছেলে রাহুল (২৮), মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে মাসুম (৩৫) এবং আবু সাদের ছেলে বাবলুকে (২৫) আসামি করা হয়েছে।
বাদী মো. সিরাজুল ইসলাম (৩৮) তাঁর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ১১ অক্টোবর বেলা আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে মোটরসাইকেলযোগে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ফকিরপাড়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব আব্দুল্লাহপুর শান্তি মোড়ে পৌঁছালে তিনি দেখতে পান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল করছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মিছিলে ‘শেখ হাসিনা আসবে, রাজপথ কাঁপবে’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘মুজিব তোমার স্মরণে, ভয় করি না মরণে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এজাহারনামীয় আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী শান্তি মোড় থেকে প্রায় ২০০ গজ দক্ষিণে গিয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়া, জননিরাপত্তা ও স্বাধীন রাষ্ট্রের সংহতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনা সৃষ্টি করেছেন।
মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, লিখিত অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

